পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘোষিত বিশেষ সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আব্দুল মালেক। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্ত বাতাসে পরিবারের কাছে ফিরলেন তিনি।
রোববার (২৪ মে) বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
দেশব্যাপী রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আওতায় যেসব চারজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন চুয়াডাঙ্গার আব্দুল মালেক।
মুক্তিপ্রাপ্ত আব্দুল মালেক চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুক গড়গড়ি মাদরাসাপাড়ার মৃত মোন্তাজ মালিতার ছেলে। কারামুক্তির সময় কারাফটকে অপেক্ষমাণ স্বজনরা আবেগঘন পরিবেশে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফিরে আসায় সেখানে সৃষ্টি হয় এক মানবিক ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তের।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় সারাদেশের চারজন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। সেই তালিকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদি নম্বর ২৩০৫/এ আব্দুল মালেকের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। রোববার বিকেল ৫টা ৫মিনিটে তাকে মুক্ত করা হয়।
আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থানার ২০০৭ সালের ১১ জুন দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় (সেশন নং-১০০/২০০৮) অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এরপর থেকে তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ কারাভোগের সময় আব্দুল মালেকের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয় ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার জন্য তার নাম সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে তার অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়।
কারাগার সূত্র আরও জানায়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা রোববার বিকেলে ই-মেইলের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পৌঁছায়। পরে কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির পর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আব্দুল মালেককে একটি নতুন লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে কারা কর্তৃপক্ষ সরকারি তহবিল থেকে তার মামলার অনাদায়ী পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা পরিশোধ করে দেয়। পাশাপাশি পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে তার হাতে নগদ এক হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
কারা অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় চারজন বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত অন্য বন্দিরা হলেন— ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, খুলনা জেলা কারাগারের মো. ইসলাম শেখ এবং রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের পলাশ বড়ুয়া।
তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আব্দুল মালেক ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















