০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“যেই শশুর জায়গাজমি, টাকা-পয়সা এমনকি কলিজাও কেটে দেন, সেই শশুর তেল দিতে রাজি হচ্ছিলেন না”

Ada. Munna Telecom1

এস এম সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার

জ্বালানি সংকটের কারণে নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তেলের অভাব নিয়ে নিজের এক বিব্রতকর ও হাস্যরসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন মাওলানা জুবায়ের খান। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানান।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেলের অভাবে শশুরবাড়িতে গিয়ে পড়া এক বিব্রতকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার মোটরসাইকেলের তেলের অবস্থা এমন ছিল যে কোথাও গেলে ফিরে আসার মতো তেল থাকত না। এ অবস্থায় তিনি শশুরবাড়িতে গিয়ে শশুরের মোটরসাইকেল থেকে কিছু তেল নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল, প্রয়োজনের কথা বললে শশুর আপত্তি করবেন না।

তিনি লিখেন, “তেলের অভাবে হায়া, শরম, লজ্জা সবই শেষ হয়ে গেলো। গতকাল শশুরবাড়ি গিয়েছিলাম, বাইকের তেলের যা অবস্থা, কোথাও গেলে আর ফিরে আসার তেল থাকছেনা। ভাবলাম শশুরের বাইকে যা আছে নিয়ে নিই, তেল চাইলে শশুর তো আর না করতে পারবেনা।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী শশুরের কাছে মোটরসাইকেলের ঘরের চাবি চাইলে শশুর জানান, তার নিজের মোটরসাইকেলেও তেল সংকট চলছে। ট্যাংকে যা আছে দিয়ে দিলে তিনি নিজেই চলাচল করতে পারবেন না- এমন কথাও জানান শশুর। পুরো বিষয়টি নিজ কানে শুনে তিনি লজ্জায় পড়েন এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে তিনি অবাক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে লিখেন, যেই শশুর জায়গাজমি, টাকা পয়সা এমনকি কলিজাটাও কেটে দেয় আমার জন্য, সেই বেচারা বলছে আমার গাড়িতেও তেল নেই, যা আছে দিয়ে দিলে আমি চলবো কি করে?”

পরে অনেক অনুরোধের পর এবং জামাইয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত শশুর মোটরসাইকেলের ট্যাংকে থাকা সামান্য তেল থেকে কিছু নিতে অনুমতি দেন। এরপর তিনি ট্যাংক খুলে যতটুকু পাওয়া যায় তা নেন। এ সময় তার ছোট মেয়ে ঘটনাটি মজার ছলে ছবি তোলে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি জানান, পুরো ঘটনা শেষে তিনি প্রায় ২৫০ মিলিলিটার তেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পুরো ঘটনাটি তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরলেও এতে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ভোগান্তির একটি চিত্র ফুটে উঠেছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিষয়টিকে মজার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। পোস্টের কমেন্ট বক্সে মূসা নূর নামের একজন লিখেছেন, “দুঃখজনক বিষয়! এত লজ্জা পেয়েও তেল নেওয়ার ব্যাপারে ছিলেন আপোষহীন।”

মুহাম্মাদ আবিদ হুসাইন নামের একজন মন্তব্য করেন, “এতো কিছুর বিনিময়ে মাত্র আড়াইশ মিলি?”

অন্য একজন মন্তব্য করেন, “তেলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত শশুর ভুলেও আর দাওয়াত দিবে না।”

বর্তমান জ্বালানি সংকটে এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

“যেই শশুর জায়গাজমি, টাকা-পয়সা এমনকি কলিজাও কেটে দেন, সেই শশুর তেল দিতে রাজি হচ্ছিলেন না”

প্রকাশের সময় : ০৪:১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

এস এম সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার

জ্বালানি সংকটের কারণে নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তেলের অভাব নিয়ে নিজের এক বিব্রতকর ও হাস্যরসাত্মক অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন মাওলানা জুবায়ের খান। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানান।

শনিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তেলের অভাবে শশুরবাড়িতে গিয়ে পড়া এক বিব্রতকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তার মোটরসাইকেলের তেলের অবস্থা এমন ছিল যে কোথাও গেলে ফিরে আসার মতো তেল থাকত না। এ অবস্থায় তিনি শশুরবাড়িতে গিয়ে শশুরের মোটরসাইকেল থেকে কিছু তেল নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল, প্রয়োজনের কথা বললে শশুর আপত্তি করবেন না।

তিনি লিখেন, “তেলের অভাবে হায়া, শরম, লজ্জা সবই শেষ হয়ে গেলো। গতকাল শশুরবাড়ি গিয়েছিলাম, বাইকের তেলের যা অবস্থা, কোথাও গেলে আর ফিরে আসার তেল থাকছেনা। ভাবলাম শশুরের বাইকে যা আছে নিয়ে নিই, তেল চাইলে শশুর তো আর না করতে পারবেনা।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী শশুরের কাছে মোটরসাইকেলের ঘরের চাবি চাইলে শশুর জানান, তার নিজের মোটরসাইকেলেও তেল সংকট চলছে। ট্যাংকে যা আছে দিয়ে দিলে তিনি নিজেই চলাচল করতে পারবেন না- এমন কথাও জানান শশুর। পুরো বিষয়টি নিজ কানে শুনে তিনি লজ্জায় পড়েন এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে তিনি অবাক হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে লিখেন, যেই শশুর জায়গাজমি, টাকা পয়সা এমনকি কলিজাটাও কেটে দেয় আমার জন্য, সেই বেচারা বলছে আমার গাড়িতেও তেল নেই, যা আছে দিয়ে দিলে আমি চলবো কি করে?”

পরে অনেক অনুরোধের পর এবং জামাইয়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত শশুর মোটরসাইকেলের ট্যাংকে থাকা সামান্য তেল থেকে কিছু নিতে অনুমতি দেন। এরপর তিনি ট্যাংক খুলে যতটুকু পাওয়া যায় তা নেন। এ সময় তার ছোট মেয়ে ঘটনাটি মজার ছলে ছবি তোলে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি জানান, পুরো ঘটনা শেষে তিনি প্রায় ২৫০ মিলিলিটার তেল নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পুরো ঘটনাটি তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরলেও এতে বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ভোগান্তির একটি চিত্র ফুটে উঠেছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিষয়টিকে মজার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। পোস্টের কমেন্ট বক্সে মূসা নূর নামের একজন লিখেছেন, “দুঃখজনক বিষয়! এত লজ্জা পেয়েও তেল নেওয়ার ব্যাপারে ছিলেন আপোষহীন।”

মুহাম্মাদ আবিদ হুসাইন নামের একজন মন্তব্য করেন, “এতো কিছুর বিনিময়ে মাত্র আড়াইশ মিলি?”

অন্য একজন মন্তব্য করেন, “তেলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত শশুর ভুলেও আর দাওয়াত দিবে না।”

বর্তমান জ্বালানি সংকটে এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।