ভারত থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ। চলতি আগস্টে প্রথম চালানের কোচগুলো বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ঠিক কোন দিনে এগুলো সীমান্ত অতিক্রম করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভারত থেকে কোচগুলো গ্রহণ ও সীমান্ত পারাপারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত রয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশন।
দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তরিকুল ইসলাম জানান, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা নতুন কোচ আসার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে ভারতের রানাঘাট স্টেশনে খোঁজ নেওয়া হলেও তখনও কোচগুলো সেখানে পৌঁছায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, রানাঘাটে কোচ পৌঁছানোর পর দর্শনা স্টেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। এরপর সীমান্ত পারাপারসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রায় চার ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ এক দিন সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি করা হচ্ছে এসব আধুনিক এলএইচবি কোচ। ২০২৪ সালে ভারতের রেল বিভাগের অধীন রপ্তানি সংস্থা রাইটসের মাধ্যমে সাত ধরনের মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের অর্ডার দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৯টি কোচ চলতি আগস্টে বাংলাদেশে পাঠানোর কথা রয়েছে।
নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি, যাত্রী সতর্কীকরণ ও জরুরি অ্যালার্ম ব্যবস্থা, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, বেবি কেয়ার রুম এবং নামাজের কক্ষ। এসি কোচগুলোতে ফ্যানসহ অন্যান্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও রাখা হয়েছে।
দর্শনা রেলবন্দর সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী করে নির্মাণ করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে কোনো কারণে ছাদে যাত্রী ওঠার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অতিরিক্ত চাপ যেন কোচের কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়টিও নির্মাণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মোট ২০০টি অত্যাধুনিক এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম ধাপের ১৯টি কোচসহ পর্যায়ক্রমে সবগুলো কোচ বহরে যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের ব্রডগেজ কোচ সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার ট্রেনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং রেলসেবার মানও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 





















