০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার ইশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতাকে কুপিয়েছে আ.লীগের কর্মীরা, অবস্থা আশংকাজনক

আহত রিপন হোসেন দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রিপনকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে এসে রিপনের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ ঘটনায় রিপনের ভাই বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মামলায় অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনার পরপরই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় ডিবি ও দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, খাইরুল ইসলাম (৩০), কুদ্দুস আলী (৩২), হাসেম আলী (৪৫) ও শরিফুল ইসলাম খোকন (৪০)। তাদের সবার বাড়ি ইশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদপাড়া এলাকায়।

আরও পড়ুন

তুচ্ছ ঘটনায় কুপিয়ে জখম, বাঁচানো গেল না চুয়াডাঙ্গার সাজুকে

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযানে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশের সময় : ০৭:০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার ইশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতাকে কুপিয়েছে আ.লীগের কর্মীরা, অবস্থা আশংকাজনক

আহত রিপন হোসেন দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রিপনকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে এসে রিপনের ওপর হামলা চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ ঘটনায় রিপনের ভাই বাদী হয়ে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মামলায় অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনার পরপরই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় ডিবি ও দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের মহেশপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, খাইরুল ইসলাম (৩০), কুদ্দুস আলী (৩২), হাসেম আলী (৪৫) ও শরিফুল ইসলাম খোকন (৪০)। তাদের সবার বাড়ি ইশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদপাড়া এলাকায়।

আরও পড়ুন

তুচ্ছ ঘটনায় কুপিয়ে জখম, বাঁচানো গেল না চুয়াডাঙ্গার সাজুকে

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযানে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।