চুয়াডাঙ্গায় প্রায় অর্ধশতাধিক এতিম শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য পিঠা উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে মা-বাবা হারা এসব এতিম শিশুদের যেন আনন্দের শেষ ছিল না। নিজেদের হাতে তৈরি পিঠা ভাগাভাগি করে খেয়েছেন তারা। এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।

আয়োজকরা বলছেন, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পিঠা উৎসব পালিত হলেও সরকারি শিশু বালিকা পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রায় বঞ্চিত। বাবা-হারা সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুর মানসিক বিকাশে অবদান রাখবে তাদেরকে ব্যাতিক্রমী এ আয়োজন।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) চত্বরে এ আয়োজন করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংযোগ’ টিম।

দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা উৎসব ও
নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ১৫ বিজয়ী শিশুকে পুরস্কৃত করা হয়।
সংযোগ (সংযুক্তা) টিমের নারী সদস্যরা শিশু শিক্ষার্থীদের সকলের মাঝে তাদের নিজ হাতে বানানো পিঠা পরিবেশন করেন। যার মধ্যে ছিলো পিতই পিঠা, পাকান পিঠা, জামাই পিঠা, পায়েস, মোয়া ও রাশিয়ার পিঠা।

শিশুরা জানায়, এই ধরনের ব্যতিক্রম উৎসব আমাদের মুগ্ধ করেছে। বাহারি ধরনের পিঠা খেয়ে আমরা আনন্দিত।
নিলা খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আমরা এরকম অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারি না। সংযোগ টিমের উদ্যোগে আমাদের নিয়ে পিঠা উৎসব ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠান করায় আমরা অনেক আনন্দিত।

সানজিদা নামের এক শিক্ষার্থী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এই প্রথম পিঠা উৎসবের আনন্দ উপভোগ করলাম। হাতে বানানো পিঠা খেয়ে খুব ভালো লেগেছে৷ আমরা পুরো অনুষ্ঠানটি ব্যাপক আনন্দ করেছি।
শ্রাবণী খাতুন নামে এক শিক্ষার্থী রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পিঠা উৎসববে আমরা সবাই নাচ গান করেছি। হরেকরকম পিঠা খেয়েছি। আমাদের অনেক ভালো লেগেছে।
সংযোগের চুয়াডাঙ্গার টিম কো-অর্ডিনেটর নাঈম ইসলাম শুভ রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যের মধ্যে পিঠা উৎসব অন্যতম। স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই উৎসব পালিত হয়। তবে চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) শিক্ষার্থীরা এই পিঠা উৎসবের স্বাদ পায়না। তাদের জন্যেই আমাদের এই ব্যতিক্রম আয়োজন। শিশুদের সঙ্গে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজ, পিঠা উৎসব, সংস্কৃতি অনুষ্টান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। শিশুরা খুব আনন্দিত। আমরাও আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে সংযোগ-সংযুক্তা টিমের সদস্যরা সহ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুশফিকুর রহমান, নুসরাত জাহান রোজা, নিতু ইসলাম
জেসমিন আক্তার প্রীতি, জান্নাতুল ফেরদৌস ছন্দা, মুক্তা পারভীন, নুসরাত জাহান মৌলি, তাশরিফা রহমান ইশারা, হাফসা এ্যালিউশা, সাদিয়া নূর
শাহরিয়ার স্বপ্নীল, মাহবুব ইসলাম আকাশ, সুমন সরদার, নাহিদ জাভেদ, হামিদ উদ্দিন, মাহিন বিল্লাহ
মেসবাহুর রহমান, আফরান মারুফ, তাসলিম, মান্না মিয়া, ফাহিম উদ্দিন মভিন ও সাদিক প্রমুখ।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















