০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলমডাঙ্গায় দুই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ফারুক মোড় এলাকায় দুই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রবিন হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইসমতারা খাতুন ও ঝরনা খাতুন আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী ইসমতারা খাতুনের স্বামী আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ইসমতারার অভিযোগ, তাঁর স্বামী বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই রবিন হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং একপর্যায়ে বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়।

ইসমতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রবিন হোসেন তাঁর বাড়িতে গিয়ে চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ইসমতারা বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

অপর ভুক্তভোগী ঝরনা খাতুনের অভিযোগ, রবিন হোসেন তাঁকেও বিভিন্ন সময়ে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে।

ঝরনা বলেন, আমি সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকি। এমন ঘটনার পর আমি ও আমার সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও তাঁদের দাবি।

তবে দুই নারীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবিন হোসেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে। দুই নারীর সঙ্গে কুপ্রস্তাব দেওয়া কিংবা পরিকল্পিতভাবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে দুই নারীর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সাংবাদিক শেখ মইদুল ইসলাম ও সারিয়া শরীফের দাবি, অভিযুক্ত রবিন হোসেন সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সাংবাদিকরা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কথা জানান।

সাংবাদিকদের আরও দাবি, পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগও তোলা হয়। সাংবাদিকরা এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিক শেখ মইদুল ইসলাম ও শরীফ বলেন, আমরা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করতে চাই।

ভুক্তভোগী দুই নারীর পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানা গেছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ হয়েছে কিনা জেনে বিস্তারিত জানানো হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

কুকিয়া চাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রথম সভা

আলমডাঙ্গায় দুই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও মারধরের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের ফারুক মোড় এলাকায় দুই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রবিন হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইসমতারা খাতুন ও ঝরনা খাতুন আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী ইসমতারা খাতুনের স্বামী আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ইসমতারার অভিযোগ, তাঁর স্বামী বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই রবিন হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো এবং একপর্যায়ে বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়।

ইসমতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রবিন হোসেন তাঁর বাড়িতে গিয়ে চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে স্বামীকে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ইসমতারা বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। তাঁর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

অপর ভুক্তভোগী ঝরনা খাতুনের অভিযোগ, রবিন হোসেন তাঁকেও বিভিন্ন সময়ে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মারধর করা হয়েছে।

ঝরনা বলেন, আমি সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকি। এমন ঘটনার পর আমি ও আমার সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকে প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলেও তাঁদের দাবি।

তবে দুই নারীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রবিন হোসেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে। দুই নারীর সঙ্গে কুপ্রস্তাব দেওয়া কিংবা পরিকল্পিতভাবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে দুই নারীর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সাংবাদিক শেখ মইদুল ইসলাম ও সারিয়া শরীফের দাবি, অভিযুক্ত রবিন হোসেন সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে সাংবাদিকরা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের কথা জানান।

সাংবাদিকদের আরও দাবি, পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। একপর্যায়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অভিযোগও তোলা হয়। সাংবাদিকরা এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

সাংবাদিক শেখ মইদুল ইসলাম ও শরীফ বলেন, আমরা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করতে চাই।

ভুক্তভোগী দুই নারীর পক্ষ থেকে আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানা গেছে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, অভিযোগ হয়েছে কিনা জেনে বিস্তারিত জানানো হবে।