০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গায় মৎস্য সপ্তাহ'র উদ্বোধন

‎’মৎস্য চাষে অত্যাধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে’

‎র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান।


‎
‎অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, মৎস্য চাষীদের বক্তব্যের মাধ্যমে যে সমস্যার কথাগুলো উঠে এসেছে তা হয়তো আমরা এখানে বসে সমাধান করতে পারব না তবে জাতীয় পর্যায়ে সমস্যা গুলোর কিভাবে সমাধান করা যায় সেই তথ্য আমরা প্রেরণ করতে পারি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সকল মৎস্য চাষীদের সমস্যা গুলোর সমাধান উপস্থাপন করা হবে। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো জনবল সংকট থাকে, মৎস্য খাতে জনবল রয়েছে সেই জনবল দিয়েই যতটুকু কাজ সম্পন্ন করা যায় তাই করতে হবে। মৎস্য চাষ ও কৃষি ক্ষেত্রে অত্যাধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। এতে করে ভক্ষণ যোগ্য মাছ নিরাপদে আহার করা যাবে।
‎
‎তিনি আরো বলেন, মাছের খামার গুলোকে ক্রোমিয়াম বা ভারী ধাতু দ্বারা কোটিং করা হচ্ছে এতে করে মাছের পেটে ওই ভারী ধাতুগুলা যাচ্ছে এবং এগুলো মানুষ ভক্ষণের মাধ্যমে নানান রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা এবং জেলা পর্যায়ে এ সকল সমস্যা গুলো নিরসনে মৎস্য চাষীদের অবগত করতে হবে।
‎
‎জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাছ আমাদের জীবন জীবিকার সাথে জড়িত। মানুষের কর্মসংস্থান ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের মোট জিডিপির ২.৫ শতাংশ মৎস্য খাত থেকে পূরণ হয়। কৃষির জিডিপির ০. ৮৭ শতাংশ মৎস্য খাত থেকে পূরণ হয়। বৈদেশিক মুদ্রা ও কর্মসংস্থানে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছের সাথে জড়িত। বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়। প্রায় ৪৬০ প্রজাতির মাছ বাংলাদেশে পাওয়া যায়। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে ক্যাবের রিপোর্ট অনুযায়ী মাছের দাম তুলনামূলক কম বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস চাষী পর্যায়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে যা দেশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ও মৎস্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
‎
‎অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকরামুল হক ইকরা প্রমুখ।
‎
‎অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪ জন চাষির হাতে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
‎
‎অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নাঈম, এবি পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা জাসাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, এবি পার্টি জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী রুসদী আহমেদ (মজনু), চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য চাষী ও ব্যাবসায়ীরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, সবজি বিক্রেতার হাতে ফল বিক্রেতা খুন

চুয়াডাঙ্গায় মৎস্য সপ্তাহ'র উদ্বোধন

‎’মৎস্য চাষে অত্যাধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে’

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

‎র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান।


‎
‎অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, মৎস্য চাষীদের বক্তব্যের মাধ্যমে যে সমস্যার কথাগুলো উঠে এসেছে তা হয়তো আমরা এখানে বসে সমাধান করতে পারব না তবে জাতীয় পর্যায়ে সমস্যা গুলোর কিভাবে সমাধান করা যায় সেই তথ্য আমরা প্রেরণ করতে পারি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সকল মৎস্য চাষীদের সমস্যা গুলোর সমাধান উপস্থাপন করা হবে। অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো জনবল সংকট থাকে, মৎস্য খাতে জনবল রয়েছে সেই জনবল দিয়েই যতটুকু কাজ সম্পন্ন করা যায় তাই করতে হবে। মৎস্য চাষ ও কৃষি ক্ষেত্রে অত্যাধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। এতে করে ভক্ষণ যোগ্য মাছ নিরাপদে আহার করা যাবে।
‎
‎তিনি আরো বলেন, মাছের খামার গুলোকে ক্রোমিয়াম বা ভারী ধাতু দ্বারা কোটিং করা হচ্ছে এতে করে মাছের পেটে ওই ভারী ধাতুগুলা যাচ্ছে এবং এগুলো মানুষ ভক্ষণের মাধ্যমে নানান রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করা এবং জেলা পর্যায়ে এ সকল সমস্যা গুলো নিরসনে মৎস্য চাষীদের অবগত করতে হবে।
‎
‎জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাছ আমাদের জীবন জীবিকার সাথে জড়িত। মানুষের কর্মসংস্থান ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের মোট জিডিপির ২.৫ শতাংশ মৎস্য খাত থেকে পূরণ হয়। কৃষির জিডিপির ০. ৮৭ শতাংশ মৎস্য খাত থেকে পূরণ হয়। বৈদেশিক মুদ্রা ও কর্মসংস্থানে প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাছের সাথে জড়িত। বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়। প্রায় ৪৬০ প্রজাতির মাছ বাংলাদেশে পাওয়া যায়। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেমন বেড়েছে ক্যাবের রিপোর্ট অনুযায়ী মাছের দাম তুলনামূলক কম বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস চাষী পর্যায়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে যা দেশের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ও মৎস্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে।
‎
‎অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকরামুল হক ইকরা প্রমুখ।
‎
‎অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৪ জন চাষির হাতে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
‎
‎অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নাঈম, এবি পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা জাসাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, এবি পার্টি জেলা সাধারণ সম্পাদক আলী রুসদী আহমেদ (মজনু), চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য চাষী ও ব্যাবসায়ীরা।