০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ভ্যান চুরির অভিযোগে যুবককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুরে ভ্যান চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুরের একটি ভ্যান চুরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আলমডাঙ্গা থেকে চুরি হওয়া ভ্যান ও মোটরসাইকেল অনেক সময় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় বিক্রি করা হয়। সেই সূত্র ধরে অন্তর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পোড়াদহ এলাকায় ভ্যানের সন্ধানে যান।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অন্তরদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুদু একটি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য, রোববার সকালে হাউসপুর গ্রামের সুমন, আশিক, বায়েজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অন্তর দুদুর বাড়িতে যান। এ সময় দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, “যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে দুদুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নেয়। সেখানে তাকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চলে নির্যাতন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা মরদেহ হাউসপুর বটতলা এলাকায় দুদুর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

কাটাকাটির জেরে পুলিশ কর্মকর্তাকে পি টি য়ে হ ত্যা

চুয়াডাঙ্গায় ভ্যান চুরির অভিযোগে যুবককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১১:১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুরে ভ্যান চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। তার ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুরের একটি ভ্যান চুরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আলমডাঙ্গা থেকে চুরি হওয়া ভ্যান ও মোটরসাইকেল অনেক সময় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় বিক্রি করা হয়। সেই সূত্র ধরে অন্তর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পোড়াদহ এলাকায় ভ্যানের সন্ধানে যান।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অন্তরদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুদু একটি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তার ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য, রোববার সকালে হাউসপুর গ্রামের সুমন, আশিক, বায়েজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অন্তর দুদুর বাড়িতে যান। এ সময় দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, “যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে।”

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে দুদুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নেয়। সেখানে তাকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে চলে নির্যাতন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা মরদেহ হাউসপুর বটতলা এলাকায় দুদুর মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।