টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাতিজি ইসমত আরা।
জানা গেছে, গত ২ আগস্ট রাতে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের আর্থিক সহায়তায় গত ৬ আগস্ট জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার তাঁকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সোমবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। অসুস্থ অবস্থায় তাঁর জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় ফেলে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা তাঁর খোঁজ নেননি। তবে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তারের দাবি, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন।
ভাতিজি ইসমত আরা বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার চাচাকে আমার বাড়িতে নিয়ে আসি। আজ বিকেল ৩টার দিকে চাচার মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার বাড়িতে জানাজা শেষে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।”
অসুস্থ অবস্থায় জীবনের শেষ সময়টুকু স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে অন্যের সহায়তায় চিকিৎসা নেওয়ার পর জামাল উদ্দিনের মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 





















