০১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সিগারেটের রমরমা বাণিজ্য

চুয়াডাঙ্গায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে একাধিক চক্র প্রকাশ্যে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাইকারি দোকান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে অবৈধ সিগারেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সিগারেটের প্যাকেটে সরকারি ব্যান্ডরোল নেই, অনেক ক্ষেত্রে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি কার্টন সিগারেট থেকে সরকার যে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও ভ্যাট পাওয়ার কথা, তা পুরোপুরি ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।


স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ সিগারেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়েই রয়েছে ৪-৫ জন সিণ্ডিকেট ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, তারা দেশী-বিদেশী ও লোকাল ব্র‍্যান্ডের এবং নকল সিগারেট জেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ব্যবহার করে ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে এসব সিগারেট সরবরাহ করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু আড়ত থেকে তা বাজারে ছড়িয়ে দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যান্ডরোলবিহীন সিগারেট বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ চুয়াডাঙ্গায় এই আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়ভাবে মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও তা লোক দেখানো বলেই অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যদি প্রশাসনের নজরদারি কার্যকর হতো, তাহলে বছরের পর বছর ধরে কীভাবে এই অবৈধ ব্যবসা প্রকাশ্যে চলতে পারে? কেন এখনো জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অবৈধ সিগারেট ব্যবসার পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা জরুরি। একই সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও দায়িত্বে অবহেলা কিংবা সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এই রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সিগারেটের এই রমরমা বাণিজ্যের পিছনে কারা জড়িত তাদের নাম জানতে চোখ রাখুন রেডিও চুয়াডাঙ্গায়।

চলবে….

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক জিসান আহমেদ

চুয়াডাঙ্গায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সিগারেটের রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর ধরে একাধিক চক্র প্রকাশ্যে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাইকারি দোকান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে অবৈধ সিগারেট সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব সিগারেটের প্যাকেটে সরকারি ব্যান্ডরোল নেই, অনেক ক্ষেত্রে নকল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি কার্টন সিগারেট থেকে সরকার যে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও ভ্যাট পাওয়ার কথা, তা পুরোপুরি ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।


স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ সিগারেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা শহরজুড়েই রয়েছে ৪-৫ জন সিণ্ডিকেট ব্যবসায়ী। অভিযোগ রয়েছে, তারা দেশী-বিদেশী ও লোকাল ব্র‍্যান্ডের এবং নকল সিগারেট জেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ব্যবহার করে ট্রাক ও পিকআপভ্যানে করে এসব সিগারেট সরবরাহ করেন এবং নির্দিষ্ট কিছু আড়ত থেকে তা বাজারে ছড়িয়ে দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী ব্যান্ডরোলবিহীন সিগারেট বিক্রি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ চুয়াডাঙ্গায় এই আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। স্থানীয়ভাবে মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও তা লোক দেখানো বলেই অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যদি প্রশাসনের নজরদারি কার্যকর হতো, তাহলে বছরের পর বছর ধরে কীভাবে এই অবৈধ ব্যবসা প্রকাশ্যে চলতে পারে? কেন এখনো জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অবৈধ সিগারেট ব্যবসার পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা জরুরি। একই সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও দায়িত্বে অবহেলা কিংবা সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এই রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সিগারেটের এই রমরমা বাণিজ্যের পিছনে কারা জড়িত তাদের নাম জানতে চোখ রাখুন রেডিও চুয়াডাঙ্গায়।

চলবে….