চুয়াডাঙ্গা পূর্ববিরোধের জেরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হক ইকরাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চিকিৎসক।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সিঅ্যাণ্ডবিপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, রাতে ইকরামুল তার বন্ধুদের সাথে সিঅ্যান্ডবিপাড়ার শাকের আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলো। এসময় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রনিয়ে ইকরামুলের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এসময় ইকরার বন্ধুরা পালিয়ে যায় এবং ইকরা একা এই হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। তবে হাসপাতালে ইকরার অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।
স্থানীয় একাধিক সূত্র আরও জানায়, নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে ইকরার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, ‘কিছুদিন পূর্বে মহিলা কলেজপাড়ায় কয়েকজন যুবক একটি মেয়ে আর একটি ছেলেকে আটকে রেখেছিলো। আহত ইকরাসহ আরও কয়েকজন ওই ছেলে-মেয়ে দুজনকে সিঅ্যান্ডবি পাড়াতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মহিলা কলেজপাড়ার একটি ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতেও নিয়ে যায়। ওই ঘটনার জের ধরে ইকরার উপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।’ দাবি তাদের।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খান গণমাধ্যমকে বলেন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরামুল হক একরাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র সার্জারী কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, ধারাল অস্ত্রের আঘাতে মাথা ও পিঠে গুরুতর জখম হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগী শখে ছিল। তিন ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত নয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একইসাথে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সুত্র – সময়ের সমীকরণ
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 























