০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা পুলিশের সফল অভিযান: ভোরে ডাকাতি, বিকেলে ধরা, নগদ টাকা উদ্ধার

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারীতে ভোরে সংঘটিত ডাকাতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সদর থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত রকিবুল ইসলাম (২৮)।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে পৌরসভাধীন হাজরাহাটি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির লুট হওয়া নগদ সাড়ে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক রকিবুল ইসলাম একই গ্রামের এনামুল ওরফে খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী ইটভাটার সামনে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত চারজনের একটি দল সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ করে। তারা মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে অন্তত দুজনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্তে নামে।

আরও পড়ুন

দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, এলাকাবাসীর সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ খুব অল্প সময়েই রকিবুলকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। বিকেলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে হাজরাহাটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ডাকাতির শিকার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের বাদশাহ ফয়সাল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রতিদিনের মতো ভোর ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মিঠাই বাড়ির কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। বোয়ালমারী ইটভাটার কাছে পৌঁছে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের হেডলাইটের কারণে সামনে রাখা গাছ দেখতে না পেয়ে ব্রেক করতে করতেই ডাকাতদের সামনে গিয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, এ সময় দেখি এক মোটরসাইকেলচালককে তারা বেধড়ক মারছে। এরপর আমার কাছে থাকা সামান্য টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর আমাকে ছেড়ে দিলে কিছুদুর গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল করলে পুলিশ ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু ডাকাতরা এর আগেই পালিয়ে যায়। ডাকাতদলের দুজনের হাতে ধারালো অস্ত্র এবং দুজনের হাতে লাঠি ছিল। অন্য মোটরসাইকেলচালক টাকা বা মোবাইল দিতে না চাইলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়।

আরও পড়ুন

আলমডাঙ্গায় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে জখম, রেফার্ড

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘটনার পরই আমরা জড়িতদের সনাক্তে কাজ শুরু করি। নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর বিকেলে রকিবুলকে আটক করা হয়। তার নিকট থেকে ডাকাতির সাড়ে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে লুট হওয়া মোবাইল ফোন এবং জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।

এদিকে, পুলিশের এ দ্রুত অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক সড়ক ডাকাতি প্রতিরোধে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানকে প্রমাণ করে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা পুলিশের সফল অভিযান: ভোরে ডাকাতি, বিকেলে ধরা, নগদ টাকা উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার বোয়ালমারীতে ভোরে সংঘটিত ডাকাতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সদর থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন অভিযুক্ত রকিবুল ইসলাম (২৮)।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে পৌরসভাধীন হাজরাহাটি গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির লুট হওয়া নগদ সাড়ে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক রকিবুল ইসলাম একই গ্রামের এনামুল ওরফে খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী ইটভাটার সামনে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত চারজনের একটি দল সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ করে। তারা মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে অন্তত দুজনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্তে নামে।

আরও পড়ুন

দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, এলাকাবাসীর সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ খুব অল্প সময়েই রকিবুলকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। বিকেলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে হাজরাহাটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ডাকাতির শিকার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের বাদশাহ ফয়সাল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রতিদিনের মতো ভোর ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মিঠাই বাড়ির কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। বোয়ালমারী ইটভাটার কাছে পৌঁছে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকের হেডলাইটের কারণে সামনে রাখা গাছ দেখতে না পেয়ে ব্রেক করতে করতেই ডাকাতদের সামনে গিয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, এ সময় দেখি এক মোটরসাইকেলচালককে তারা বেধড়ক মারছে। এরপর আমার কাছে থাকা সামান্য টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর আমাকে ছেড়ে দিলে কিছুদুর গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ কল করলে পুলিশ ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যায়, কিন্তু ডাকাতরা এর আগেই পালিয়ে যায়। ডাকাতদলের দুজনের হাতে ধারালো অস্ত্র এবং দুজনের হাতে লাঠি ছিল। অন্য মোটরসাইকেলচালক টাকা বা মোবাইল দিতে না চাইলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়।

আরও পড়ুন

আলমডাঙ্গায় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে জখম, রেফার্ড

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘটনার পরই আমরা জড়িতদের সনাক্তে কাজ শুরু করি। নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর বিকেলে রকিবুলকে আটক করা হয়। তার নিকট থেকে ডাকাতির সাড়ে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে লুট হওয়া মোবাইল ফোন এবং জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।

এদিকে, পুলিশের এ দ্রুত অভিযানের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত ও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক সড়ক ডাকাতি প্রতিরোধে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানকে প্রমাণ করে।