০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আলমডাঙ্গায় মহিলা দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শরীফুজ্জামান শরীফ

‘ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষায় ও কর্মসংস্থানে বিশেষ উদ্যোগ নেবে বিএনপি’

Ada. Munna Telecom1

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ন শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী সোনিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বেলগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের এই সম্মেলন অত্র এলাকার নারীদের রাজনৈতিক প্রেরণার এক নতুন সূচনা। আজকের এই সম্মেলন প্রমাণ করে, এই উপজেলার নারীরা আর দর্শক নন—তারাও এখন পরিবর্তনের অগ্রদূত। মহিলা দলের নেত্রীরা পরিবার, সমাজ ও সংগঠনের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে দেশের জন্য লড়ছেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি আরও বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি যেন নারী জাগরণেরই প্রতীক। তাদের আদর্শই আমাদের আন্দোলনের মেরুদণ্ড। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মহিলা দলের প্রতিটি নেত্রীকে আরও ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কর্মমুখী হতে হবে। কারণ, আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে আপনারাই নেতৃত্ব দেবেন।

জেলা বিএনপির এই নেতা বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে নারীরা নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, নারীর মর্যাদা রক্ষা না হলে গণতন্ত্রও পূর্ণতা পায় না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দেশনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি নেত্রী যদি নিজের অবস্থান থেকে নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করেন, তাহলে সেই দিন আর দূরে নয়, যেদিন এই দেশের নারীরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার নতুন ভোর দেখবে। আপনারাই হবেন সেই পরিবর্তনের অগ্রদূত।

সমাবেশের প্রধান বক্তা ও জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রউফুন নাহার রিনা বলেন, মহিলা নেত্রীদের শক্তিই বিএনপির আগামী আন্দোলনের মূল ভিত্তি। এখন সময় এসেছে মাঠে নামার এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার। আমরা ইনশাআল্লাহ সামনের সারিতেই থাকব।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আকতার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা খাতুন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি শেফালি খাতুন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছালমা জাহান পারুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন আক্তার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন।

সম্মেলনে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় এক হাজার নারী নেত্রী ও কর্মী অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

আলমডাঙ্গায় মহিলা দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শরীফুজ্জামান শরীফ

‘ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষায় ও কর্মসংস্থানে বিশেষ উদ্যোগ নেবে বিএনপি’

প্রকাশের সময় : ০৬:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়ন শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী সোনিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বেলগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের এই সম্মেলন অত্র এলাকার নারীদের রাজনৈতিক প্রেরণার এক নতুন সূচনা। আজকের এই সম্মেলন প্রমাণ করে, এই উপজেলার নারীরা আর দর্শক নন—তারাও এখন পরিবর্তনের অগ্রদূত। মহিলা দলের নেত্রীরা পরিবার, সমাজ ও সংগঠনের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে দেশের জন্য লড়ছেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি আরও বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক, আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি যেন নারী জাগরণেরই প্রতীক। তাদের আদর্শই আমাদের আন্দোলনের মেরুদণ্ড। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মহিলা দলের প্রতিটি নেত্রীকে আরও ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কর্মমুখী হতে হবে। কারণ, আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে আপনারাই নেতৃত্ব দেবেন।

জেলা বিএনপির এই নেতা বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে নারীরা নানা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, নারীর মর্যাদা রক্ষা না হলে গণতন্ত্রও পূর্ণতা পায় না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারী শিক্ষার প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা দেশনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি নেত্রী যদি নিজের অবস্থান থেকে নিষ্ঠা, সততা ও সাহস নিয়ে কাজ করেন, তাহলে সেই দিন আর দূরে নয়, যেদিন এই দেশের নারীরা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার নতুন ভোর দেখবে। আপনারাই হবেন সেই পরিবর্তনের অগ্রদূত।

সমাবেশের প্রধান বক্তা ও জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রউফুন নাহার রিনা বলেন, মহিলা নেত্রীদের শক্তিই বিএনপির আগামী আন্দোলনের মূল ভিত্তি। এখন সময় এসেছে মাঠে নামার এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার। আমরা ইনশাআল্লাহ সামনের সারিতেই থাকব।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আকতার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা খাতুন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সিনিয়র সহসভাপতি শেফালি খাতুন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছালমা জাহান পারুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন আক্তার।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন।

সম্মেলনে ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে প্রায় এক হাজার নারী নেত্রী ও কর্মী অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।