চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়পুটিমারিতে জমিজমা বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তিনজন ও পিটুনিতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
এরমধ্যে তিনজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও অপর তিনজন আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (হারদি হাসপাতাল) থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের বড়পুটিমারি উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এক পক্ষের আহতরা হলেন, বড়পুটিমারি গ্রামের মৃত চাদঁ মালিথার ছেলে ডিটুল মালিথা (৬০), একই এলাকার মৃত জামাত মালিথার ছেলে সোহরাব আলী মালিথা (৬২) ও তার ভাই গোলাপ আলী মালিথা (৭৫)।
অপরপক্ষের আহতরা হলেন, পুটিমারি গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে মারুফ হোসেন (৪৮), একই এলাকার মৃত আকবার আলীর ছেলে শাহিন ও আব্দুল গফুরের ছেলে রবিউল (৪৫)
আরও পড়ুন
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির নেতাসহ ৭ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
আহত, গোলাপ আলী মালিথা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমাদের রের্কডকৃত জমিতে সরিষা রোপন করে বাড়িতে আসার সময় বড়পুটিমারি উত্তরপাড়ার আজিবার মন্ডলের বাড়ির সামনে আসলে পৌছালে একই গ্রামের মৃত গফুর মন্ডলের ছেলে সাজদা (৭০), আইজউদ্দিন (৬০) রবিউল (৪৬), মৃত আকবার আলী ছেলে শাহিন (২৫), দেলোয়ার (৩০), আলী হোসেন (৪৫), সাজদারের ছেলে সোহাগ(৩৫), রিকাতের ছেলে রাসেল (২৭), মহিরের ছেলে ইলিয়াচ ও মনির এবং মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে নিয়ামত (৪২) লাঠি, সাবল, লোহার রড, দা সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালাই। স্থানীয়রা আমাদের উদ্বার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ডিটুলের অবস্থা গুরুতর।

অপরদিকে আহত রবিউল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব পুরুষ থেকে কেদারনগ মাঠের পুটিমারি মৌজার আরএস ২৫৯৩ দাগের ২৭ শতক জমিটি আমরা চাষ আবাদ করে আসছি। ২০১০ সালের দিকে জানতে পারি জমিটি আর একজনের নামে রের্কড হয়ে গেছে। আদালতে রের্কড সংশোধনের মামলা দায়ের করি। মামলাটি ৮-০৬-২০২৩ ইং সালের আমাদের পক্ষে রায় আসে। মঙ্গলবার সকালে জানতে পারি আমাদের জমি দখল করে সরিষা রোপন করছে। আমরা বাধাঁ দিলে মৃত জামাত মালিথার ছেলে গোলাপ মালিথা ও সোহরাব মালিথা, মৃত চাদঁ মালিথার ছেলে ডিটুল আমাদের পিটিয়ে জখম করে। আমরা আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছি। এছাড়া নিয়ামত, রবিউল, মনির সেখানে ছিল না, তবুও তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাবা ও তার ভাইকে কুপিয়ে জখম
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দুজনের শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বাকি একজনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে। সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মাসুদুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, মারামারির ঘটনাটি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















