মামাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে আর ফেরা হলো না ১৩ বছর বয়সী মাহিয়া খাতুনের। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাদেমাজু গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই কিশোরীও পানিতে ডুবে যাচ্ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মাহিয়াকে বাঁচানো যায়নি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ডাউকি ইউনিয়নের বাদেমাজু স্মৃতি একাডেমির পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহিয়ার মৃত্যু হয়। সে ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান টুটুলের মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গত ২ নভেম্বর বাদেমাজু গ্রামের মামা আক্কাস আলীর বাড়িতে আসে মাহিয়া। বুধবার দুপুরে মামার বাড়ির পাশের বাদেমাজু স্মৃতি একাডেমির পুকুরে মামার নাতনিসহ আরও এক কিশোরীর সঙ্গে গোসল করতে নামে সে।
একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। তাদের মধ্যে একজন সাঁতার জানত। সে অন্য একজনকে টেনে পুকুরের পাড়ে তুলতে পারলেও মাহিয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি। তিন কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত পুকুরে নেমে মাহিয়াকে উদ্ধার করেন। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের ধারণা, পুকুরের সিঁড়িতে থাকা রড অথবা পানির নিচে থাকা গাছের ডালপালার সঙ্গে আঘাত লেগে মাহিয়ার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে পারে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, বাদেমাজু গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন করায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মাহিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। এ ঘটনায় বাদেমাজু, ছত্রপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুত্র – দৈনিক মাথাভাঙ্গা
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 
















