০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হককে (৪৫) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডলের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. এনামুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী মাস্টারপাড়া গ্রামের মো. মনছুর আলীর ছেলে।

আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. আলাউদ্দিনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিবিধি অনুসরণ করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে গ্রেফতারের দিন থেকেই।

এর আগে গত ২ নভেম্বর উপজেলার বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ইজাজুল হকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও বিভিন্ন সময়ে স্কুলে যাতায়াতের পথে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষক তাকে ডেকে দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে শিক্ষক তাকে ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন সকালে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে বড় গাংনী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান।

এ ঘটনায় গঠিত পাচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. বখতিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান রেজা ও মোহাম্মদ সেলিম রেজা। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা এবং গৌরীহৃদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন। কমিটিকে পাচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রাকিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আলমডাঙ্গায় বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে বাড়ি ফেরা হলো না কিশোরীর, পুকুরে ডুবে মৃত্যু্র অভিযোগ, নাক দিয়ে ঝরছিল রক্ত

চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশের সময় : ০২:১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হককে (৪৫) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

বুধবার (৪ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডলের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. এনামুল হক আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী মাস্টারপাড়া গ্রামের মো. মনছুর আলীর ছেলে।

আদেশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. আলাউদ্দিনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিবিধি অনুসরণ করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে গ্রেফতারের দিন থেকেই।

এর আগে গত ২ নভেম্বর উপজেলার বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ইজাজুল হকের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও বিভিন্ন সময়ে স্কুলে যাতায়াতের পথে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালে শিক্ষক তাকে ডেকে দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে শিক্ষক তাকে ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন সকালে ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে বড় গাংনী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় নিয়ে যান।

এ ঘটনায় গঠিত পাচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. বখতিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান রেজা ও মোহাম্মদ সেলিম রেজা। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা এবং গৌরীহৃদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন। কমিটিকে পাচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রাকিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।