০২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের অজুহাতে সবজির বাজারে আগুন, কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মাছ-মাংসে

চুয়াডাঙ্গার সবজি বাজার

চুয়াডাঙ্গার তীব্র তাপপ্রবাহের অজুহাতে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজি, মাংস ও প্যাকেটজাত মসলার দাম। ঈদের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দাম কমেনি নিত্যপণ্যের। কারণ হিসেবে প্রচণ্ড গরমকেই দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গার নিচের বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের এই দামের চিত্র দেখা গেছে।

শহরের নিচের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে কেজিতে এখন বেগুনের দাম ৮০ টাকা কেজি। উস্তের দামে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ টাকা বাড়তি। তীব্র তাপদাহের কারণে সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অজুহাত দেখিয়ে সবজির দাম ইচ্ছামতো হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।

এতে সাধারণ ক্রেতারা সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। একদিকে তীব্র তাপদাহে পুড়ছে জনজীবন। অপরদিকে অস্বস্তি সবজির দামে। দাম বেড়েছে সব ধরনের প্যাকেজাত মসলার দাম। প্রতি প্যাকেটে ১০ টাকা বাড়তি। আর অন্যান্য প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যে ২ টাকা বাড়তি। তবে খোলা বাজারের মসলা ও অন্যান্য সব ধরনের নিত্য পণ্যের দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে আছে। গেল রমজান মাস থেকে দাম বেশি সব ধরনের ডালের দাম। কেজিতে ২০ টাকা বাড়তি হয়ে ডাল বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই। লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে সয়াবিন তেলের দাম ১৭৩ টাকা করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

আর গরুর মাংসের দাম আগের মতো করে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১ হাজার টাকা। তবে স্বস্তি ফিরেছে মাছের বাজারে। ব্রয়লার মুরগিসহ সব ধরনের মুরগির মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। প্যারেন্টস মুরগির দাম কেজিতে ২০০ টাকা বাড়তি হয়ে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইসাথে দাম কমেছে ডিম, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাচঁ ঝাল, আটা ও চালের বাজারে।

বাজারে আসা এক ক্রেতারা বলেন, বাজারের কাঁচা সবজির দাম অনেক বেশি। আবার দাম বাড়তি মাংসের। এই তীব্র গরমের মধ্যে সবজি দামেও অনেক। ঈদের আগেও বাজারের যে দাম ছিল, সেই একইভাবে সব জিনিসের দাম বাড়তি। এই দাম বাড়তে থাকলে খুব অসুবিধার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। ঈদের পর থেকেই আর বাজারে মনিটরিং করা হয়নি। তাই জিনিসের দাম আর কমার কোনো অবস্থা দেখছি না। বাজারে এই গরমের অজুহাত দেখিয়ে সবজিসহ আরও সব ধরনের খাদ্য পণ্যের বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপদাহ চলছে। মাঠে সবজিতে একটু ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষক ও ব্যবসায়িরা সবজির দাম বাড়াচ্ছে। এজন্য বাজারে সবজির দাম বেশি। তবে সব রকম খাদ্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্য বাজার মনিটরিং শুরু করা হবে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন সব পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের অজুহাতে সবজির বাজারে আগুন, কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মাছ-মাংসে

প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪

চুয়াডাঙ্গার তীব্র তাপপ্রবাহের অজুহাতে বাজারে বেড়েছে সব ধরনের সবজি, মাংস ও প্যাকেটজাত মসলার দাম। ঈদের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দাম কমেনি নিত্যপণ্যের। কারণ হিসেবে প্রচণ্ড গরমকেই দায়ী করছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গার নিচের বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের এই দামের চিত্র দেখা গেছে।

শহরের নিচের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনে কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে কেজিতে এখন বেগুনের দাম ৮০ টাকা কেজি। উস্তের দামে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ টাকা বাড়তি। তীব্র তাপদাহের কারণে সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অজুহাত দেখিয়ে সবজির দাম ইচ্ছামতো হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।

এতে সাধারণ ক্রেতারা সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। একদিকে তীব্র তাপদাহে পুড়ছে জনজীবন। অপরদিকে অস্বস্তি সবজির দামে। দাম বেড়েছে সব ধরনের প্যাকেজাত মসলার দাম। প্রতি প্যাকেটে ১০ টাকা বাড়তি। আর অন্যান্য প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যে ২ টাকা বাড়তি। তবে খোলা বাজারের মসলা ও অন্যান্য সব ধরনের নিত্য পণ্যের দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে আছে। গেল রমজান মাস থেকে দাম বেশি সব ধরনের ডালের দাম। কেজিতে ২০ টাকা বাড়তি হয়ে ডাল বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই। লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে সয়াবিন তেলের দাম ১৭৩ টাকা করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

আর গরুর মাংসের দাম আগের মতো করে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খাসির মাংসের দাম কেজিতে ১ হাজার টাকা। তবে স্বস্তি ফিরেছে মাছের বাজারে। ব্রয়লার মুরগিসহ সব ধরনের মুরগির মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। প্যারেন্টস মুরগির দাম কেজিতে ২০০ টাকা বাড়তি হয়ে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। একইসাথে দাম কমেছে ডিম, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাচঁ ঝাল, আটা ও চালের বাজারে।

বাজারে আসা এক ক্রেতারা বলেন, বাজারের কাঁচা সবজির দাম অনেক বেশি। আবার দাম বাড়তি মাংসের। এই তীব্র গরমের মধ্যে সবজি দামেও অনেক। ঈদের আগেও বাজারের যে দাম ছিল, সেই একইভাবে সব জিনিসের দাম বাড়তি। এই দাম বাড়তে থাকলে খুব অসুবিধার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। ঈদের পর থেকেই আর বাজারে মনিটরিং করা হয়নি। তাই জিনিসের দাম আর কমার কোনো অবস্থা দেখছি না। বাজারে এই গরমের অজুহাত দেখিয়ে সবজিসহ আরও সব ধরনের খাদ্য পণ্যের বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপদাহ চলছে। মাঠে সবজিতে একটু ক্ষতি হচ্ছে। তাই কৃষক ও ব্যবসায়িরা সবজির দাম বাড়াচ্ছে। এজন্য বাজারে সবজির দাম বেশি। তবে সব রকম খাদ্য পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখার জন্য বাজার মনিটরিং শুরু করা হবে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন সব পণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।