০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন মেহেরপুরের জাবেদ আলী, মেনে নেননি স্ত্রী

Ada. Munna Telecom1

সামান্য অভিমানে পরিবার ছেড়ে প্রায় চার দশক কাটিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জাবেদ আলী (৭০)। তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর আগে ৩২ বছর বয়সে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যান জাবেদ আলী। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তারা ধরে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। গত সোমবার (১ জুন) হঠাৎ বাড়িতে ফিরে আসেন জাবেদ আলী। তবে নিজ বাড়িতে না উঠে আশ্রয় নিয়েছেন বড় ভাই আবেদ আলীর বাড়িতে। স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের সঙ্গে মুখোমুখি হলেও দীর্ঘ বিচ্ছেদের অভিমানে কোনো কথাবার্তা হয়নি।

জাবেদ আলীর চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিন বলেন, দুই-তিন বছর আগেও খোঁজ করেছি। ৩৮ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা চাই সে এখন থেকে পরিবারের সঙ্গেই থাকুক। তিনি যেখানে ছিলেন সেখানে তার ১১ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, তাকেও এখানে নিয়ে আসতে চাই। পারিবারিক কিছু জটিলতা আছে, আশা করি সেগুলো মিটে যাবে।

জাবেদ আলী বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার কাছে মোবাইল ফোন ছিল না, লেখাপড়াও জানি না, তাই চিঠিও লিখতে পারিনি। আমার সন্তান এখন বড় হয়ে গেছে, বিদেশে থাকে। বাড়ি ছাড়ার পর বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দীর্ঘদিন মানিকগঞ্জে বসবাস করেছি, সেখানে জমি কিনে ঘরও করেছি। দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, তিনি আট বছর আগে মারা গেছেন। সেখানে ১১ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে।

বাড়ি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামান্য একটি অভিমান থেকেই বাড়ি ছেড়েছিলাম। এই কষ্টের কথা কাউকে বলতে চাই না। অর্থের অভাবসহ নানা কারণে আর ফেরা হয়নি।

জাবেদ আলীর নাতি জিসান আহমেদ বলেন, এই প্রথম আমি দাদাকে দেখলাম। তাকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুশি।

চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, জাবেদ ভাই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আমরা অনেক ছোট ছিলাম। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে।

স্ত্রী রুশিয়া খাতুন জানান, স্বামী চলে যাওয়ার পর সংসার ও সন্তানদের সব দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক একাই কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে জাবেদ আলী কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ দেননি। 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের খোরপোশের বিষয়টি সমাধান না হলে আমি তাকে গ্রহণ করব না। শুধু ফিরে এলেই সবকিছু আগের মতো হয়ে যায় না। পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশা করি।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, পরিবারের মধ্যে কিছু অভিমান থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করি সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে এবং তিনি পরিবারের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাবেন।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

আগামীকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গায় সেসব এলাকায় টানা ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে

৩৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন মেহেরপুরের জাবেদ আলী, মেনে নেননি স্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সামান্য অভিমানে পরিবার ছেড়ে প্রায় চার দশক কাটিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জাবেদ আলী (৭০)। তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর আগে ৩২ বছর বয়সে হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যান জাবেদ আলী। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে তারা ধরে নিয়েছিলেন তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। গত সোমবার (১ জুন) হঠাৎ বাড়িতে ফিরে আসেন জাবেদ আলী। তবে নিজ বাড়িতে না উঠে আশ্রয় নিয়েছেন বড় ভাই আবেদ আলীর বাড়িতে। স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের সঙ্গে মুখোমুখি হলেও দীর্ঘ বিচ্ছেদের অভিমানে কোনো কথাবার্তা হয়নি।

জাবেদ আলীর চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিন বলেন, দুই-তিন বছর আগেও খোঁজ করেছি। ৩৮ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা চাই সে এখন থেকে পরিবারের সঙ্গেই থাকুক। তিনি যেখানে ছিলেন সেখানে তার ১১ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, তাকেও এখানে নিয়ে আসতে চাই। পারিবারিক কিছু জটিলতা আছে, আশা করি সেগুলো মিটে যাবে।

জাবেদ আলী বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার কাছে মোবাইল ফোন ছিল না, লেখাপড়াও জানি না, তাই চিঠিও লিখতে পারিনি। আমার সন্তান এখন বড় হয়ে গেছে, বিদেশে থাকে। বাড়ি ছাড়ার পর বিভিন্ন জেলায় ঘুরে দীর্ঘদিন মানিকগঞ্জে বসবাস করেছি, সেখানে জমি কিনে ঘরও করেছি। দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন, তিনি আট বছর আগে মারা গেছেন। সেখানে ১১ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে।

বাড়ি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামান্য একটি অভিমান থেকেই বাড়ি ছেড়েছিলাম। এই কষ্টের কথা কাউকে বলতে চাই না। অর্থের অভাবসহ নানা কারণে আর ফেরা হয়নি।

জাবেদ আলীর নাতি জিসান আহমেদ বলেন, এই প্রথম আমি দাদাকে দেখলাম। তাকে ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুশি।

চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, জাবেদ ভাই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার সময় আমরা অনেক ছোট ছিলাম। পরে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। আজ তাকে ফিরে পেয়ে ভালো লাগছে।

স্ত্রী রুশিয়া খাতুন জানান, স্বামী চলে যাওয়ার পর সংসার ও সন্তানদের সব দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক একাই কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে জাবেদ আলী কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ দেননি। 

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের খোরপোশের বিষয়টি সমাধান না হলে আমি তাকে গ্রহণ করব না। শুধু ফিরে এলেই সবকিছু আগের মতো হয়ে যায় না। পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে বলে আশা করি।

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, পরিবারের মধ্যে কিছু অভিমান থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করি সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হবে এবং তিনি পরিবারের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাবেন।

সুত্র : ঢাকা পোস্ট

এএইচ