০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর আমাদের ওপর এতো জুলুম হওয়ার পরেও আমরা ছেড়ে যাইনি : জামায়াত আমির

Ada. Munna Telecom1

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না, যে যখন নির্বাচন আসবে, তখন রঙ ধারণ করে সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে হাজির হবো। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ওপর এতো জুলুম হওয়ার পরেও আমরা একদিনের জন্য ছেড়ে কোথাও যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়ে আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গেছি। ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছি। অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম।এখনও আল্লাহ রেখেছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় জোটের ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে সুদিন দুর্দিন কী আসবে আল্লাহ ভালো জানেন। কথা দিচ্ছি বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাব না ইনশাআল্লাহ। আছি থাকব, আপনাদের সুখেও থাকব ইনশাআল্লাহ দুঃখেও থাকব।

জামায়াতে আমির বলেন, আমাদের কর্মীরা আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাই বলে হারাম পথ, আমাদের কর্মীদের উপার্জনের রাস্তা নাই, আমরা চাঁদাবাজি করব না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ জানে, আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। যারা আমাদের মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে দিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে আমাদের নির্যাতন করেছে, আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেব না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বড় মজলুম সংগঠন। কোনো সংগঠনের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে শেখ হাসিনা সরকার খুন করে নাই। কোনো সংগঠনের নিবন্ধন কেড়ে নেয় নাই। আর কোনো সংগঠনের প্রতীক কেড়ে নেয় নাই। আর কোনো সংগঠনের অফিস তালা বন্ধ করে নাই। কোনো সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেয় নাই। আর কোনো সংগঠনকে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয় নাই। এটা একমাত্র সংগঠন জামায়াতে ইসলামী।

তবে আমরা বিশ্বাস করি, যারা সরকারের বাইরে বিরোধী দল আমরা ছিলাম সকলেই মজলুম ছিলেন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মজলুম ছিলেন না। এদেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিল। আলেম-ওলামা, ছাত্র জনতা, সাংবাদিক বন্ধুরা, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী ও কৃষক-শ্রমিকরা মজলুম ছিল।

এ সময় জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৮টি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) সিটে জামায়াতে ইসলামীর এ.কে.এম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন তালুকদার, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন।
 
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে ওই নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের নেতা ও প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

১৫ বছর আমাদের ওপর এতো জুলুম হওয়ার পরেও আমরা ছেড়ে যাইনি : জামায়াত আমির

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না, যে যখন নির্বাচন আসবে, তখন রঙ ধারণ করে সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে হাজির হবো। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ওপর এতো জুলুম হওয়ার পরেও আমরা একদিনের জন্য ছেড়ে কোথাও যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়ে আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গেছি। ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়েছি। অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম।এখনও আল্লাহ রেখেছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় জোটের ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে সুদিন দুর্দিন কী আসবে আল্লাহ ভালো জানেন। কথা দিচ্ছি বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাব না ইনশাআল্লাহ। আছি থাকব, আপনাদের সুখেও থাকব ইনশাআল্লাহ দুঃখেও থাকব।

জামায়াতে আমির বলেন, আমাদের কর্মীরা আর্থিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাই বলে হারাম পথ, আমাদের কর্মীদের উপার্জনের রাস্তা নাই, আমরা চাঁদাবাজি করব না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ জানে, আমরা চাঁদাবাজি করি নাই। যারা আমাদের মামলা দিয়ে দফায় দফায় জেলে দিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে, কষ্ট দিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে আমাদের নির্যাতন করেছে, আমাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেব না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বড় মজলুম সংগঠন। কোনো সংগঠনের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে শেখ হাসিনা সরকার খুন করে নাই। কোনো সংগঠনের নিবন্ধন কেড়ে নেয় নাই। আর কোনো সংগঠনের প্রতীক কেড়ে নেয় নাই। আর কোনো সংগঠনের অফিস তালা বন্ধ করে নাই। কোনো সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দেয় নাই। আর কোনো সংগঠনকে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয় নাই। এটা একমাত্র সংগঠন জামায়াতে ইসলামী।

তবে আমরা বিশ্বাস করি, যারা সরকারের বাইরে বিরোধী দল আমরা ছিলাম সকলেই মজলুম ছিলেন। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মজলুম ছিলেন না। এদেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিল। আলেম-ওলামা, ছাত্র জনতা, সাংবাদিক বন্ধুরা, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী ও কৃষক-শ্রমিকরা মজলুম ছিল।

এ সময় জামায়াতে আমীর ডা. শফিকুর রহমান জেলার ৮টি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন। তাদের মধ্যে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) সিটে জামায়াতে ইসলামীর এ.কে.এম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন তালুকদার, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন।
 
টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে ওই নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের নেতা ও প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।