০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র নার্সিং অধিদপ্তর বিলুপ্তির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় নার্সদের প্রতিবাদ

Ada. Munna Telecom1

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সারাদেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গাতেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনএ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি রেহেনা পারভিন-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন, নার্সিং ইন্সট্রাক্টর নাজমুন নাহার ও পারুল মণ্ডল, সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুল হক, খালেদা খাতুন, মমতাজ বেগম, রাজিয়া খাতুন, রেবা খাতুন, শাহানাজ পারভিন, আলমডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাজিয়া খাতুন, জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শীমন ঘরানীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নার্স এবং নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, “৪৮ বছরের ঐতিহ্য, সেবা ও অগ্রগতির প্রতীক এই স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসনকে বিলুপ্ত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা নার্সিং পেশার স্বকীয়তা ও উন্নয়নের পরিপন্থী।” তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নার্সিং প্রশাসন দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অপরিসীম অবদান রেখে আসছে, তাই এটিকে বিলুপ্ত করা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬ সালে স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের পরও এখনো নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, ক্যারিয়ার পাথ ও জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নার্সদের পদোন্নতি, বেতন-বৈষম্য নিরসন এবং গবেষণায় অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, “সরকারের উচিত হবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।”

তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর রক্ষা, জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন, যুগোপযোগী নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, বেতন বৈষম্য নিরসন, ইনক্রিমেন্ট প্রদান,
নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং অপ্রশিক্ষিত ভুয়া নার্স নির্মূল।

এসময় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, “নার্সিং পেশার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এই জনস্বার্থবিরোধী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সারাদেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমিন আক্তার।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

স্বতন্ত্র নার্সিং অধিদপ্তর বিলুপ্তির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় নার্সদের প্রতিবাদ

প্রকাশের সময় : ০৯:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সারাদেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গাতেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনএ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি রেহেনা পারভিন-এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন, নার্সিং ইন্সট্রাক্টর নাজমুন নাহার ও পারুল মণ্ডল, সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুল হক, খালেদা খাতুন, মমতাজ বেগম, রাজিয়া খাতুন, রেবা খাতুন, শাহানাজ পারভিন, আলমডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাজিয়া খাতুন, জীবননগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শীমন ঘরানীসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নার্স এবং নার্সিং শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, “৪৮ বছরের ঐতিহ্য, সেবা ও অগ্রগতির প্রতীক এই স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসনকে বিলুপ্ত করার যে প্রচেষ্টা চলছে, তা নার্সিং পেশার স্বকীয়তা ও উন্নয়নের পরিপন্থী।” তারা আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নার্সিং প্রশাসন দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অপরিসীম অবদান রেখে আসছে, তাই এটিকে বিলুপ্ত করা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬ সালে স্বতন্ত্র অধিদপ্তর গঠনের পরও এখনো নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, ক্যারিয়ার পাথ ও জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে নার্সদের পদোন্নতি, বেতন-বৈষম্য নিরসন এবং গবেষণায় অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, “সরকারের উচিত হবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধবভাবে গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।”

তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর রক্ষা, জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন, যুগোপযোগী নিয়োগবিধি ও অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, বেতন বৈষম্য নিরসন, ইনক্রিমেন্ট প্রদান,
নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং অপ্রশিক্ষিত ভুয়া নার্স নির্মূল।

এসময় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, “নার্সিং পেশার মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এই জনস্বার্থবিরোধী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সারাদেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনা করেন বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমিন আক্তার।

এএইচ