০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেডিও চুয়াডাঙ্গা তুলে ধরল অসহায়ত্বের গল্প, সহায়তায় এগিয়ে এলেন আলমডাঙ্গার ইউএনও

Ada. Munna Telecom1

স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেডিও চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রতারণার শিকার হয়ে জীবিকার একমাত্র সম্বল পাখিভ্যান হারানো অসহায় কিশোর রাকিব (১৪) ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। তার এই মানবিক সহায়তায় হতাশায় ভেঙে পড়া পরিবারটির মুখে ফিরেছে নতুন আশার আলো।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের কিশোর রাকিবের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল একটি পাখিভ্যান। প্রায় দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় রাকিবের বাবা, পেশায় পাখিভ্যানচালক, গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই অল্প বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বড় ছেলে রাকিব। ঋণের টাকায় কেনা সেই পাখিভ্যান চালিয়েই চার সদস্যের সংসার কোনোমতে চলছিল।

কিন্তু গত ১১ মার্চ রাকিবের জীবনে নেমে আসে নতুন দুর্যোগ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রীবেশে তিনজন ব্যক্তি রাকিবের ভ্যানে ওঠে। কথা বলতে বলতে তারা তাকে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় নিয়ে আসে। পরে সুযোগ বুঝে কিশোরটিকে ফেলে রেখে তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল পাখিভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর রাকিব ও তার মা শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি। এতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ বাস্তবতার মুখোমুখি পড়ে। সামনে ঈদকে ঘিরে পরিবারের কষ্ট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাকিবের মা বলেন, “দুই ছেলে বারবার বলছে ঈদের পোশাক কিনে দিতে। কিন্তু আমাদের পেটে ভাতই জোটে না। কিভাবে তাদের ঈদের পোশাক কিনে দেব?”

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নিয়ে গত ১২ মার্চ রাতে রেডিও চুয়াডাঙ্গার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিতে আসে এবং আলোচনায় উঠে আসে অসহায় পরিবারটির দুর্দশা। পরদিন আলমডাঙ্গার একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠনের সদস্যরাও পরিবারটির পাশে এসে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

এরপর রেডিও চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে বিষয়টি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের নজরে আসে। মানবিক বিবেচনায় রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তাদের সাহস জোগান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় ইউএনও পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যদি এমন অসহায় মানুষের খোঁজ পান, অবশ্যই তা সংবাদে তুলে ধরবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কোনো অবস্থাতেই সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না।”

তিনি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া পাখিভ্যান উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রতারণাকারী চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক রোজিনা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “স্যারের এই সহায়তা আমাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। তিনি শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি, আমাদের মনোবলও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

রেডিও চুয়াডাঙ্গা তুলে ধরল অসহায়ত্বের গল্প, সহায়তায় এগিয়ে এলেন আলমডাঙ্গার ইউএনও

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রেডিও চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রতারণার শিকার হয়ে জীবিকার একমাত্র সম্বল পাখিভ্যান হারানো অসহায় কিশোর রাকিব (১৪) ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পান্না আক্তার। তার এই মানবিক সহায়তায় হতাশায় ভেঙে পড়া পরিবারটির মুখে ফিরেছে নতুন আশার আলো।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ডাউকি পোয়ামারি গ্রামের কিশোর রাকিবের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল একটি পাখিভ্যান। প্রায় দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় রাকিবের বাবা, পেশায় পাখিভ্যানচালক, গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো কাজ করতে পারেন না। বাধ্য হয়েই অল্প বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বড় ছেলে রাকিব। ঋণের টাকায় কেনা সেই পাখিভ্যান চালিয়েই চার সদস্যের সংসার কোনোমতে চলছিল।

কিন্তু গত ১১ মার্চ রাকিবের জীবনে নেমে আসে নতুন দুর্যোগ। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা থেকে যাত্রীবেশে তিনজন ব্যক্তি রাকিবের ভ্যানে ওঠে। কথা বলতে বলতে তারা তাকে চুয়াডাঙ্গা শহরের বাগানপাড়া এলাকায় নিয়ে আসে। পরে সুযোগ বুঝে কিশোরটিকে ফেলে রেখে তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল পাখিভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর রাকিব ও তার মা শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান পাননি। এতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃসহ বাস্তবতার মুখোমুখি পড়ে। সামনে ঈদকে ঘিরে পরিবারের কষ্ট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাকিবের মা বলেন, “দুই ছেলে বারবার বলছে ঈদের পোশাক কিনে দিতে। কিন্তু আমাদের পেটে ভাতই জোটে না। কিভাবে তাদের ঈদের পোশাক কিনে দেব?”

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি নিয়ে গত ১২ মার্চ রাতে রেডিও চুয়াডাঙ্গার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের দৃষ্টিতে আসে এবং আলোচনায় উঠে আসে অসহায় পরিবারটির দুর্দশা। পরদিন আলমডাঙ্গার একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবিক সংগঠনের সদস্যরাও পরিবারটির পাশে এসে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

এরপর রেডিও চুয়াডাঙ্গায় সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে বিষয়টি আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের নজরে আসে। মানবিক বিবেচনায় রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নিজ হাতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তাদের সাহস জোগান এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় ইউএনও পান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যদি এমন অসহায় মানুষের খোঁজ পান, অবশ্যই তা সংবাদে তুলে ধরবেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা কোনো অবস্থাতেই সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না।”

তিনি আরও জানান, প্রতারণার মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া পাখিভ্যান উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রতারণাকারী চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক রোজিনা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “স্যারের এই সহায়তা আমাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। তিনি শুধু টাকা দিয়ে সাহায্য করেননি, আমাদের মনোবলও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।”