০২:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭.৫ ডিগ্রিতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, বিপর্যস্ত জনজীবন

Ada. Munna Telecom1

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই বলেন, শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম, এখন শীতের কারণে যাওয়া যায় না। তাই হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাত-পা বরফ হয়ে যায়, তবে হাঁটলে শরীর একটু গরম হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ১১টার আগে খুব একটা ক্রেতার দেখা মিলছে না। শীতের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম।

অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, তীব্র শীতে বাচ্চারা সকালে উঠতেই চায় না। জোর করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে প্রায়ই স্কুলে যেতে দেরি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

এএইচ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭.৫ ডিগ্রিতে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশের সময় : ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হাড়কাঁপানো তীব্র শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষগুলো।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে স্থানীয় প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই বলেন, শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা যেন বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় একটা ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে কাজ খুঁজতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শীতের দাপটে বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। ভোরে প্রাইভেট পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আগে ভ্যান বা ইজিবাইকে যেতাম, এখন শীতের কারণে যাওয়া যায় না। তাই হেঁটেই যেতে হচ্ছে। হাত-পা বরফ হয়ে যায়, তবে হাঁটলে শরীর একটু গরম হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ১১টার আগে খুব একটা ক্রেতার দেখা মিলছে না। শীতের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম।

অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, তীব্র শীতে বাচ্চারা সকালে উঠতেই চায় না। জোর করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে প্রায়ই স্কুলে যেতে দেরি হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

এএইচ