০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় সুখবর, কমছে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবার খরচ

Ada. Munna Telecom1

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সেবা এবং মোবাইল অপারেটরদের জন্য কর কমানোর ঘোষণা এসেছে। ডিজিটাল খাত ও টেলিযোগাযোগ সেবা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে বাজেটে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট সেবার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব সিদ্ধান্ত ডিজিটাল সংযোগ বিস্তার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হবে।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিতে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, এখন থেকে ইন্টারনেট সেবা থেকে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্ধেক কম কর দিতে হবে। এর ফলে তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমবে, যা সরাসরি গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেট আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠলে সবার জন্য এর ব্যবহার সহজ হবে। একই সঙ্গে, মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার করের পরিমাণ ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো এখন থেকে তাদের মোট আয়ের ওপর কম কর দেবে। এতে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা সেবার মান উন্নয়ন ও নতুন নতুন প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে।

এই পদক্ষেপ মোবাইল গ্রাহকদের উন্নত সেবা এবং আরও সাশ্রয়ী কলরেট ও ডেটা প্যাকেজ পাওয়ার পথ খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আয়-ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার হ্রাস পাওয়ার ঘটনা।

বাজেট উপস্থাপন করা হলেও সংসদ ভেঙে থাকার কারণে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক হবে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত নেবে এবং সেগুলো বিবেচনায় রেখে বাজেট চূড়ান্ত করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

বড় সুখবর, কমছে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবার খরচ

প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং মোবাইল গ্রাহকদের জন্য সুখবর দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সেবা এবং মোবাইল অপারেটরদের জন্য কর কমানোর ঘোষণা এসেছে। ডিজিটাল খাত ও টেলিযোগাযোগ সেবা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে বাজেটে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ইন্টারনেট সেবার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, এসব সিদ্ধান্ত ডিজিটাল সংযোগ বিস্তার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সাশ্রয়ী করতে সহায়ক হবে।

সোমবার (২ জুন) বিকেলে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিতে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এ ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, এখন থেকে ইন্টারনেট সেবা থেকে উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশের পরিবর্তে ৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্ধেক কম কর দিতে হবে। এর ফলে তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমবে, যা সরাসরি গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেট আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠলে সবার জন্য এর ব্যবহার সহজ হবে। একই সঙ্গে, মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার করের পরিমাণ ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হচ্ছে। মোবাইল কোম্পানিগুলো এখন থেকে তাদের মোট আয়ের ওপর কম কর দেবে। এতে তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে এবং তারা সেবার মান উন্নয়ন ও নতুন নতুন প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে।

এই পদক্ষেপ মোবাইল গ্রাহকদের উন্নত সেবা এবং আরও সাশ্রয়ী কলরেট ও ডেটা প্যাকেজ পাওয়ার পথ খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আয়-ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার হ্রাস পাওয়ার ঘটনা।

বাজেট উপস্থাপন করা হলেও সংসদ ভেঙে থাকার কারণে কোনো সংসদীয় আলোচনা বা বিতর্ক হবে না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত নেবে এবং সেগুলো বিবেচনায় রেখে বাজেট চূড়ান্ত করা হবে।