একদিকে মাঠে তরুণদের খেলাধুলার প্রেরণা, অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উদ্দীপনা ছড়াচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত স্বপ্ন পূরণ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান তরুণ সমাজকে নিয়ে এক নতুন স্বপ্ন দেখেন। তাঁর ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার রূপরেখা হলো এই দেশের তরুণ সমাজের মুক্তির সনদ। ৩১ দফায় খেলাধুলা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার আছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করব এবং প্রতিটি জেলা-উপজেলায় খেলার মাঠের জন্য সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করব।
তিনি আরও বলেন, আজ এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে এসে আমার মন ভরে গেল। এই টুর্নামেন্ট প্রমাণ করেছে—খেলাধুলাই হলো মাদক ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সেরা প্রতিষেধক। তোমরা মাদকে না বলো, খেলাধুলায় মন দাও। এই মাঠেই জন্ম নিক আগামীর জাতীয় তারকা, যে চুয়াডাঙ্গার মুখ উজ্জ্বল করবে।
ফাইনাল খেলায় চুয়াডাঙ্গা একাদশ ২-১ গোলে হরিনাকুন্ড একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লাল্টু রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জেলা জাসাস সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, একই দিনে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ডিঙ্গেদহ, জালশুকা, ফুলবাড়িয়া, ছয়ঘড়িয়া গ্রামে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান শরীফুজ্জামান শরীফ। তাঁর গণসংযোগ অনেক জায়গায় তাৎক্ষণিক জনসভায় পরিণত হয়।
গণসংযোগে তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা জাসাস সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিমসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢলে গণসংযোগ রূপ নেয় জনসভায়। সে সময় শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, “এই নির্বাচন আমাদের ১০ দফা আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ—জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তারেক রহমানের নির্দেশ স্পষ্ট: ভয় নয়, ঐক্যবদ্ধ হোন, ধানের শীষকে ভোট দিন। আমরা ক্ষমতায় গেলে শুধু ভোটাধিকারই নয়, বিচারহীনতার অবসান ঘটবে, গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠিত হবে। ধানের শীষের বিজয় মানে জনগণের মুক্তি।”
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কোনো সাধারণ ইশতেহার নয়, এটি সহজ-সরল পা-ফাটা মানুষের মুক্তির সনদ। আমরা প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জনগণের সেবা নিশ্চিত করব এবং সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকের ন্যায্যমূল্য ফিরিয়ে আনব।
একদিকে ফুটবল মাঠে তরুণদের প্রেরণা, অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ—সব মিলিয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ যেন এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন চুয়াডাঙ্গার মানুষের কাছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণদের হাতে শক্তি, সাহস ও পরিবর্তনের স্বপ্ন আছে, তারেক রহমানের ৩১ দফাই সেই স্বপ্নের রূপরেখা।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























