০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জামায়াত সেক্রেটারির হুঁশিয়ারি

পাঁচ দফা মেনে নিন, না হলে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে

Ada. Munna Telecom1

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে না নিলে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আপনারা আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের এই গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। খুব দ্রুতই উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমরা আশা করি।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিন পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি দিতে যমুনা অভিমুখে রওনা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে আসতেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর এখানেই অবস্থান নেন তারা।

পদযাত্রা আটকে দিলেও স্মারকলিপি দিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে যমুনায় যান আট ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপি জমা দিয়ে ফের মৎস্য ভবনে এসে কথা বলেন জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ১১ তারিখে এই আটটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রাজধানীতে ডাকা মহাসমাবেশের খবর আপনারা পেয়েছেন। এর আগে আমরা আজ সরকারের কাছে আবারও স্মরণ করে দিতে চাই। এই মহাসমাবেশে ঢাকায় লক্ষ লক্ষ জনতার পদভারে মুখরিত হওয়ার আগে আপনারা আমাদের দাবি মেনে নিন।

প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ তারিখের সমাবেশ সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে যাবে। এ সময় সাংবাদিক-প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি। 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জড়ো হতে থাকেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কর্মী-সমর্থকরা। বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন তারা। এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শেষে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে রওনা হয় আটটি ইসলামী দল।

জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলো হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

জামায়াত সেক্রেটারির হুঁশিয়ারি

পাঁচ দফা মেনে নিন, না হলে ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে

প্রকাশের সময় : ০৩:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারিসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে না নিলে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আপনারা আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের এই গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তা না হলে ১১ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার চিত্র ভিন্ন হবে ইনশাআল্লাহ। খুব দ্রুতই উপদেষ্টা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমরা আশা করি।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এদিন পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি দিতে যমুনা অভিমুখে রওনা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে আসতেই তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর এখানেই অবস্থান নেন তারা।

পদযাত্রা আটকে দিলেও স্মারকলিপি দিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে যমুনায় যান আট ইসলামী দলের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপি জমা দিয়ে ফের মৎস্য ভবনে এসে কথা বলেন জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ১১ তারিখে এই আটটি রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে রাজধানীতে ডাকা মহাসমাবেশের খবর আপনারা পেয়েছেন। এর আগে আমরা আজ সরকারের কাছে আবারও স্মরণ করে দিতে চাই। এই মহাসমাবেশে ঢাকায় লক্ষ লক্ষ জনতার পদভারে মুখরিত হওয়ার আগে আপনারা আমাদের দাবি মেনে নিন।

প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ তারিখের সমাবেশ সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লিয়াজোঁ কমিটির পক্ষ থেকে যাবে। এ সময় সাংবাদিক-প্রশাসনিক দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন তিনি। 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জড়ো হতে থাকেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কর্মী-সমর্থকরা। বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন তারা। এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য শেষে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা নিয়ে রওনা হয় আটটি ইসলামী দল।

জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলো হলো- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিশ্চিত করা; ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।