চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জীবননগর-দত্তনগর সড়কের নারিকেল বাগান সংলগ্ন পাতিলা ফার্মের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজ পরিচালনার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজে সিমেন্টের তুলনায় অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, যা স্থাপনার স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া সীমানা প্রাচীরের নিচে ছয় ইঞ্চি পরপর রডের রিং বসানোর নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও বাস্তবে কোথাও এক ফুট, আবার কোথাও এক ফুটেরও বেশি দূরত্ব রেখে রিং বসিয়ে ঢালাই কাজ করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ইমরান হোসেনের কাছে কাজের সিডিউল, প্রতিষ্ঠানের নাম ও বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “কাজ নিয়ম মাফিকই চলছে। ঢালাই দেওয়ার সময় ইঞ্জিনিয়ার স্যার উপস্থিত ছিলেন।” তবে সাংবাদিকরা সরেজমিনে ঢালাইয়ের পর রডের রিংয়ের দূরত্ব মেপে অনিয়মের প্রমাণ দেখালে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও বাজেট সম্পর্কে কোনো তথ্য না দিয়েই কৌশলে স্থান ত্যাগ করেন, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।” তবে অভিযোগ ওঠার পরও কাজ অব্যাহত থাকায় তার তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (৪ মে) পুনরায় যোগাযোগ করলে প্রকৌশলী মামুন জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রকল্পের ব্যয়ের পরিমাণ এই মুহূর্তে তার মনে নেই। তিনি আরও বলেন, “আমি সবসময় সেখানে যেতে পারি না, তাই ফার্মে কর্মরত সুজন নামের একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি কমিটির মাধ্যমে কাজটি তদারকি করার কথা।”

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ইমরান হোসেনের বক্তব্যেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ফার্মের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে জানেন বলে জানা গেছে।
এতসব অভিযোগ, অসংগতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের অস্পষ্ট বক্তব্যের পরও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় তদারকি কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা কি তাহলে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন?
এ অবস্থায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উন্মোচন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুত্র – দৈনিক জনবাণী
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 
















