১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ থেকে এখন ২০ বিঘা, আঙ্গুর চাষে জীবননগরের উদ্যোক্তা আশরাফুলের বাজিমাত

  • জীবননগর অফিস
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৩১ Views
Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের আঙ্গুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক নতুন গল্প। একসময় মাত্র ৩ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে তা বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ বিঘায়। এর মধ্যে ৭ বিঘা জমি জুড়ে বর্তমানে আঙ্গুরের চাষ হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ তালপুকুর মাঠে গড়ে ওঠা এই বাগানে এখন প্রতিদিনই চলছে আঙ্গুর সংগ্রহের ব্যস্ততা। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ ক্যারেট আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লাল। তার এই বাগানের আঙ্গুর শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। জেলার পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে আঙ্গুর সংগ্রহ করছেন।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে এর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। গুণগত মান, স্বাদ এবং সতেজতার কারণে দেশীয় আঙ্গুরের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তা লাল জানান, তার এই বাগান শুধু ব্যক্তিগত সফলতার গল্প নয়, বরং এটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাগানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দৈনিক চুক্তিতে কাজ করেন। এছাড়া আরও ১৫ জন মাসিক চুক্তিতে নিয়োজিত আছেন।” এর ফলে আশপাশের এলাকার বহু মানুষ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাগানটি ঘিরে শুধু ব্যবসায়িক নয়, সামাজিক আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকার শরীফ বলেন, “অনলাইনে বাগানটি দেখে এখানে এসেছি। দেশের বাইরে থেকে যে আঙ্গুর আসে, এর মানও প্রায় একই রকম। তাই এখান থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে আমার পার্টিদের কাছে বিক্রি করব।”

এদিকে স্থানীয় কৃষকরাও এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা করছিলাম। আজ লাল ভাইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ১,৫০০টি চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছি, নিজের বাগান গড়ার জন্য।”

বাগানটি এখন দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় এক স্থানে পরিণত হয়েছে। স্কুলছাত্র আব্দুর রহিম জানায়, “আমাদের বাড়ি পাশের গ্রামে। মাঝে মাঝেই আমরা বাগানে আসি। এখানে এসে আঙ্গুর খেতেও পাই, খুব ভালো লাগে।”

খয়েরহুদা গ্রামের গৃহবধূ সপ্না তার ছোট মেয়ে লাবনীকে নিয়ে বাগান দেখতে এসে বলেন, “অনলাইনে দেখে আজ সরাসরি এলাম। বাগান খুব সুন্দর। গাছ থেকে আঙ্গুর খেয়েছি, যাওয়ার সময় কিছু কিনেও নিয়ে যাব।”

সবমিলিয়ে, তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের এই উদ্যোগ শুধু একটি বাগানের সাফল্য নয়—এটি স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া, নতুন প্রজন্মের আগ্রহ এবং স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব উদাহরণ। তার এই সাফল্য চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ আশপাশের এলাকায় কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

নুসরাত তাবাসসুমকে এমপি ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

৩ থেকে এখন ২০ বিঘা, আঙ্গুর চাষে জীবননগরের উদ্যোক্তা আশরাফুলের বাজিমাত

প্রকাশের সময় : ১১:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের আঙ্গুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে সম্ভাবনা, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক নতুন গল্প। একসময় মাত্র ৩ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ শুরু করলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে তা বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ বিঘায়। এর মধ্যে ৭ বিঘা জমি জুড়ে বর্তমানে আঙ্গুরের চাষ হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ তালপুকুর মাঠে গড়ে ওঠা এই বাগানে এখন প্রতিদিনই চলছে আঙ্গুর সংগ্রহের ব্যস্ততা। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ ক্যারেট আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লাল। তার এই বাগানের আঙ্গুর শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। জেলার পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে আঙ্গুর সংগ্রহ করছেন।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে এর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। গুণগত মান, স্বাদ এবং সতেজতার কারণে দেশীয় আঙ্গুরের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তা লাল জানান, তার এই বাগান শুধু ব্যক্তিগত সফলতার গল্প নয়, বরং এটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাগানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দৈনিক চুক্তিতে কাজ করেন। এছাড়া আরও ১৫ জন মাসিক চুক্তিতে নিয়োজিত আছেন।” এর ফলে আশপাশের এলাকার বহু মানুষ নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাগানটি ঘিরে শুধু ব্যবসায়িক নয়, সামাজিক আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকার শরীফ বলেন, “অনলাইনে বাগানটি দেখে এখানে এসেছি। দেশের বাইরে থেকে যে আঙ্গুর আসে, এর মানও প্রায় একই রকম। তাই এখান থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে আমার পার্টিদের কাছে বিক্রি করব।”

এদিকে স্থানীয় কৃষকরাও এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা করছিলাম। আজ লাল ভাইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ১,৫০০টি চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছি, নিজের বাগান গড়ার জন্য।”

বাগানটি এখন দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় এক স্থানে পরিণত হয়েছে। স্কুলছাত্র আব্দুর রহিম জানায়, “আমাদের বাড়ি পাশের গ্রামে। মাঝে মাঝেই আমরা বাগানে আসি। এখানে এসে আঙ্গুর খেতেও পাই, খুব ভালো লাগে।”

খয়েরহুদা গ্রামের গৃহবধূ সপ্না তার ছোট মেয়ে লাবনীকে নিয়ে বাগান দেখতে এসে বলেন, “অনলাইনে দেখে আজ সরাসরি এলাম। বাগান খুব সুন্দর। গাছ থেকে আঙ্গুর খেয়েছি, যাওয়ার সময় কিছু কিনেও নিয়ে যাব।”

সবমিলিয়ে, তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের এই উদ্যোগ শুধু একটি বাগানের সাফল্য নয়—এটি স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া, নতুন প্রজন্মের আগ্রহ এবং স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব উদাহরণ। তার এই সাফল্য চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ আশপাশের এলাকায় কৃষকদের মাঝে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।