০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশে চিরকুটে লেখা সেই প্রেমিক জিতুর বিরুদ্ধে মামলা

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ায় তরুণী মুমতাহেনা অহনা (২২)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় প্রেমিক শ্রাবণ রহমান জিতুকে আসামি করে এ মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তা গোপালগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশে চিরকুটে লেখা প্রেমিক শ্রাবণের পরিচয় মিলেছে, যা জানালেন তিনি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে প্রেমিক শ্রাবণ রহমান জিতুর নাম উল্লেখ করে তাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। চিরকুটে অহনা তার গভীর ভালোবাসা, একসঙ্গে সংসার গড়ার স্বপ্ন এবং বিচ্ছেদের বেদনার কথা তুলে ধরেছেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য শ্রাবণ রহমান জিতুই দায়ী।”

শ্রাবণ রহমান জিতু আমি তোমাকে অসম্ভব ভাবে ভালোবাসতাম আমি। আমার ভয়াবহ অতীত নিয়েও সত্যিকারের ভালোবাসছিলাম। তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের ছোটো একটা সংসার হবে, আমাদের একটা সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ হবে। কিভাবে পারলে ? একটিবার ও আমার কথা মনে পড়লো না? আমাদের মূহূর্তগুলো কোনোকিছুই মনে পড়লো না? আমরা ঝগড়া করতাম, মারামারি করতাম তবুও একসময় ভালোবাসতে ছাড়িনি। শ্রাবন রহমান জিতু আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। তুমিই শেষ ভালোবাসা মা-ভাই তোমরা চেষ্টা করেছে। সবসময় আগলিয়ে রাখতে কিছু কথা যার জন্য তোমাদের ক্ষতি চাই কিন্তু তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। শ্রাবন রহমান জিতু ই আমার শেষ ভালোবাসা। এর সাথে কাটানো দিনগুলো – রাতগুলো আমার জন্য অনেক কিছু ছিল। ১ মাস একসাথে সংসার এর মত জিবনটা উপভোগ করতাম এখন সে অন্য কারো। আমার মিত্যুর দায় শুধু মাত্র শ্রাবণ রহমান জিতু পিতাঃ- মতিউর রহমানের পুত্র, আজ থেকে তুমি মুক্তি শ্রাবন রহমান জিতু মিত্যুর পর ও ভালোবাসব। আমার সাথে যা করল সেটা অন্যায়। অহনা… ২৯,০৪,২০২৬

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় অহনা ও জিতুর পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। অহনা নিউ মার্কেটের ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কাজ করার সুবাদে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস শুরু করেন।

আরও পড়ুন

শ্রাবণ রহমান জিতুকে অসম্ভব ভালোবাসতাম : মৃত্যুর আগে চিরকুটে যা লিখেছিলেন অহনা

শ্রাবণ রহমান জিতু মুঠোফোনে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ পাঁচ মাস আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি জানতে পারি, অহনা ধূমপানসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতো। এছাড়া অন্যান্য কারণে ঈদুল ফিতরের দুদিন পর আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি।”

ব্রেকআপের পর শেষ দেখা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ দিন আগে সরকারি কলেজের সামনে দেখা হয়েছিল। সে সম্পর্কের কারণ জানতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “সে যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। এই কাজটি সে ঠিক করেনি।”

চিরকুটে সংসারের কথা উল্লেখ করার বিষয়টি জানতে চাইলে জিতু বলেন, আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য সে মনে করেছিল এটা সংসারের মত। এ জন্য লিখতে পারে। তবে আমরা বিবাহ করিনি।

জানা গেছে, শ্রাবণ রহমান জিতু আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং দর্শনা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহেনা অহনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন। নিহত অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকার ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট নিয়ে যা জানা গেল

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে আবেগঘন ভাষায় প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা, সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা ফুটে উঠেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মানসিক আঘাত এবং একাকীত্বের কারণে অহনা চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জানা গেছে, তিনি আগে ঈদগাহপাড়ায় ভাড়া থাকতেন এবং মাত্র ১০-১২ দিন আগে শেখপাড়ার নতুন বাসায় ওঠেন। নতুন বাসায় ওঠার পর থেকেই তাকে কিছুটা বিষণ্ন দেখা যেত বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

বুধবার দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, চিরকুটে উল্লিখিত অভিযোগ এবং দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নতুন আরএমও ডা. ফারহানা ওয়াহিদ তানি

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশে চিরকুটে লেখা সেই প্রেমিক জিতুর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ায় তরুণী মুমতাহেনা অহনা (২২)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় প্রেমিক শ্রাবণ রহমান জিতুকে আসামি করে এ মামলা করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তা গোপালগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশে চিরকুটে লেখা প্রেমিক শ্রাবণের পরিচয় মিলেছে, যা জানালেন তিনি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে প্রেমিক শ্রাবণ রহমান জিতুর নাম উল্লেখ করে তাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে। চিরকুটে অহনা তার গভীর ভালোবাসা, একসঙ্গে সংসার গড়ার স্বপ্ন এবং বিচ্ছেদের বেদনার কথা তুলে ধরেছেন।
সেখানে তিনি লিখেছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য শ্রাবণ রহমান জিতুই দায়ী।”

শ্রাবণ রহমান জিতু আমি তোমাকে অসম্ভব ভাবে ভালোবাসতাম আমি। আমার ভয়াবহ অতীত নিয়েও সত্যিকারের ভালোবাসছিলাম। তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের ছোটো একটা সংসার হবে, আমাদের একটা সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ হবে। কিভাবে পারলে ? একটিবার ও আমার কথা মনে পড়লো না? আমাদের মূহূর্তগুলো কোনোকিছুই মনে পড়লো না? আমরা ঝগড়া করতাম, মারামারি করতাম তবুও একসময় ভালোবাসতে ছাড়িনি। শ্রাবন রহমান জিতু আমি তোমাকে ভালোবেসেছি। তুমিই শেষ ভালোবাসা মা-ভাই তোমরা চেষ্টা করেছে। সবসময় আগলিয়ে রাখতে কিছু কথা যার জন্য তোমাদের ক্ষতি চাই কিন্তু তোমরা আমাকে মাফ করে দিও। শ্রাবন রহমান জিতু ই আমার শেষ ভালোবাসা। এর সাথে কাটানো দিনগুলো – রাতগুলো আমার জন্য অনেক কিছু ছিল। ১ মাস একসাথে সংসার এর মত জিবনটা উপভোগ করতাম এখন সে অন্য কারো। আমার মিত্যুর দায় শুধু মাত্র শ্রাবণ রহমান জিতু পিতাঃ- মতিউর রহমানের পুত্র, আজ থেকে তুমি মুক্তি শ্রাবন রহমান জিতু মিত্যুর পর ও ভালোবাসব। আমার সাথে যা করল সেটা অন্যায়। অহনা… ২৯,০৪,২০২৬

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় অহনা ও জিতুর পরিচয় হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। অহনা নিউ মার্কেটের ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কাজ করার সুবাদে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস শুরু করেন।

আরও পড়ুন

শ্রাবণ রহমান জিতুকে অসম্ভব ভালোবাসতাম : মৃত্যুর আগে চিরকুটে যা লিখেছিলেন অহনা

শ্রাবণ রহমান জিতু মুঠোফোনে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ পাঁচ মাস আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি জানতে পারি, অহনা ধূমপানসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতো। এছাড়া অন্যান্য কারণে ঈদুল ফিতরের দুদিন পর আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি।”

ব্রেকআপের পর শেষ দেখা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রায় ১৫ দিন আগে সরকারি কলেজের সামনে দেখা হয়েছিল। সে সম্পর্কের কারণ জানতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “সে যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। এই কাজটি সে ঠিক করেনি।”

চিরকুটে সংসারের কথা উল্লেখ করার বিষয়টি জানতে চাইলে জিতু বলেন, আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য সে মনে করেছিল এটা সংসারের মত। এ জন্য লিখতে পারে। তবে আমরা বিবাহ করিনি।

জানা গেছে, শ্রাবণ রহমান জিতু আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং দর্শনা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহেনা অহনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন। নিহত অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকার ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গায় তরুণীর মরদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুট নিয়ে যা জানা গেল

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে আবেগঘন ভাষায় প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা, সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা ফুটে উঠেছে।

স্থানীয়দের ধারণা, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মানসিক আঘাত এবং একাকীত্বের কারণে অহনা চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। জানা গেছে, তিনি আগে ঈদগাহপাড়ায় ভাড়া থাকতেন এবং মাত্র ১০-১২ দিন আগে শেখপাড়ার নতুন বাসায় ওঠেন। নতুন বাসায় ওঠার পর থেকেই তাকে কিছুটা বিষণ্ন দেখা যেত বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

বুধবার দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, চিরকুটে উল্লিখিত অভিযোগ এবং দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।