চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মামুনুর রশীদকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক যেন থামছেই না। অতীতে রাজনৈতিক বক্তব্য, খাদেমকে মারধরের অভিযোগের পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত “রাজধানীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিক্ষোভের ডাক” শীর্ষক সংবাদের মন্তব্যঘরে নিজের ব্যক্তিগত আইডি থেকে তিনি লেখেন, “জামাত মানেই বিনোদন,,, মানুষ আর আগের মতো বোকা নেই,,, বললেই মাঠে চলে যাবে,,,,,”। তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর মসজিদের ওজুখানার সামান্য মেরামতের অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদের প্রবীণ খাদেম জিয়াউর রহমানের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই ইমামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তাকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ইমাম স্বীকারও করেন যে, রাগের বশে তিনি খাদেমের ওপর হাত তুলেছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমাম নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, বিশেষ করে ফজরের নামাজে উপস্থিত থাকেন না—যা নিয়েও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।
খাদেমকে মারধরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক দলকে নিয়ে তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন সরকারি বেতনভুক্ত ইমামের এ ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্য সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ নম্বর ধারার পরিপন্থী। বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা থানা জামায়াতের আমীর নায়েব আলী বলেন, খাদেমকে মারধরের ঘটনার পর ইমাম ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একজন সরকারি ইমাম কোনো রাজনৈতিক দল নিয়ে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।
চুয়াডাঙ্গার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার জানান, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুর রহমান সাহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে এর আগে খাদেমকে মারধরের ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা মামুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্যটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “আমার আইডি অনেকেই চালায়, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি এখন একটি প্রোগ্রামে আছি, পরে কথা বলব।” এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 























