০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় মাইক বাঁজিয়ে জামায়াতের প্রচারণা: নিষেধ করায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ৯

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের অন্তত ৯ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালালে স্থানীয় বিএনপি নেতা এতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন, ছাতিয়ানতলা গ্রামের জামায়াতে ইসলামী কর্মী বদু মিয়ার ছেলে হাসিবুর রহমান, দীন মোহাম্মদের ছেলে ইসা হক, মহিদুল ইসলামের ছেলে বাবু মিয়া, নুরুল হালসোনার ছেলে নজরুল ইসলাম, কালু মণ্ডলের ছেলে তারিকুল ইসলাম।

অপরদিকে বিএনপির আহত কর্মীরা হলেন, লিয়াকত আলীর ছেলে মাসুদ আলী, চাঁদ আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, আব্দুর রশিদের ছেলে সাজু আহম্মেদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নেতা জয়নাল আবেদিন জানান, তাঁদের মনির নামের এক কর্মী পেশায় হকার। তিনি মাইক বাজিয়ে প্রচারণা চালানোর সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়, যা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

অন্যদিকে, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী কর্মী মনির হোসেন মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর সময় নিষেধ করলে তিনি এবং তাঁর লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রাথমিকভাবে তিনজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দিলেও অভিযোগ পেলে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

দামুড়হুদায় মাইক বাঁজিয়ে জামায়াতের প্রচারণা: নিষেধ করায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ৯

প্রকাশের সময় : ০১:৪৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় দলের অন্তত ৯ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালালে স্থানীয় বিএনপি নেতা এতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন, ছাতিয়ানতলা গ্রামের জামায়াতে ইসলামী কর্মী বদু মিয়ার ছেলে হাসিবুর রহমান, দীন মোহাম্মদের ছেলে ইসা হক, মহিদুল ইসলামের ছেলে বাবু মিয়া, নুরুল হালসোনার ছেলে নজরুল ইসলাম, কালু মণ্ডলের ছেলে তারিকুল ইসলাম।

অপরদিকে বিএনপির আহত কর্মীরা হলেন, লিয়াকত আলীর ছেলে মাসুদ আলী, চাঁদ আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, আব্দুর রশিদের ছেলে সাজু আহম্মেদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।

এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর নেতা জয়নাল আবেদিন জানান, তাঁদের মনির নামের এক কর্মী পেশায় হকার। তিনি মাইক বাজিয়ে প্রচারণা চালানোর সময় বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়, যা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

অন্যদিকে, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী কর্মী মনির হোসেন মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর সময় নিষেধ করলে তিনি এবং তাঁর লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় এবং উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রাথমিকভাবে তিনজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দিলেও অভিযোগ পেলে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।