১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দামুড়হুদায় আবারও সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র, স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব; স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নে আবারও অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে ইউনিয়নজুড়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কালিয়াবকরী গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুখোশধারী একদল অস্ত্রধারী বাড়িতে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও দুই ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন জানান, তার দুই ছেলে প্রবাসী। বড় ছেলে হাবিবুর ইতালিতে এবং ছোট ছেলে হাকিম মালয়েশিয়ায় থাকেন। বাড়িতে শুধু তিনি ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন বসবাস করেন। সম্প্রতি এলাকায় একটি জমি কেনার জন্য তারা বায়না করেছিলেন। পরে জমির বাকি ৮ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তার কাছে ওই ৮ লাখ টাকা রয়েছে—এমন খবরের ভিত্তিতেই ডাকাতদল বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

গোলাম হোসেনের ভাষ্য, ভোররাতে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়ির ছাদ দিয়ে এবং দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

গোলাম হোসেনের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ডাকাতদের হাতে রাইফেল, পিস্তল ও রামদা ছিল। ঘরে ঢুকেই তারা তার ও স্বামীর মুখ, হাত-পা বেঁধে ফেলে। বাড়ির বাইরে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ডাকাতরা আলমারির চাবি নিয়ে নেয়। পরে আলমারি ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং দুই ভরির বেশি স্বর্ণের গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় একসময় বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতা ছিল। সম্প্রতি এসব সংগঠনের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের আশঙ্কা। স্থানীয় বিভিন্ন মাঠে তাদের গোপন বৈঠক করতেও দেখা যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। নতিপোতা, কালিয়াবকরীসহ আশপাশের এলাকা এবং মেহেরপুরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের অনেকেই এ তৎপরতার সঙ্গে রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক মাসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গরু লালন-পালন নিয়েও এখন ডাকাতির আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে কালিয়াবকরী গ্রামের অনেক যুবক প্রবাসে থাকায় তাদের বাড়িঘর নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছরে এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ করে জনবহুল এলাকায় এমন সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সন্ধ্যার পরপরই বাড়ি ফিরে যেতে বলছে; কিন্তু এর আগে এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল না। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান।

এলাকাবাসী দ্রুত ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ নুরুল্লাহ এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ওই ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ, বিজিবির পাল্টা ফায়ার

দামুড়হুদায় আবারও সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র, স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব; স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ২ লাখ টাকা লুট

প্রকাশের সময় : ১২:০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নে আবারও অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত এক মাসে ইউনিয়নজুড়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এরই মধ্যে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কালিয়াবকরী গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুখোশধারী একদল অস্ত্রধারী বাড়িতে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে বেঁধে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও দুই ভরির বেশি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী গোলাম হোসেন জানান, তার দুই ছেলে প্রবাসী। বড় ছেলে হাবিবুর ইতালিতে এবং ছোট ছেলে হাকিম মালয়েশিয়ায় থাকেন। বাড়িতে শুধু তিনি ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুন বসবাস করেন। সম্প্রতি এলাকায় একটি জমি কেনার জন্য তারা বায়না করেছিলেন। পরে জমির বাকি ৮ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তার কাছে ওই ৮ লাখ টাকা রয়েছে—এমন খবরের ভিত্তিতেই ডাকাতদল বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

গোলাম হোসেনের ভাষ্য, ভোররাতে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি বাড়ির ছাদ দিয়ে এবং দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে। এ সময় চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

গোলাম হোসেনের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ডাকাতদের হাতে রাইফেল, পিস্তল ও রামদা ছিল। ঘরে ঢুকেই তারা তার ও স্বামীর মুখ, হাত-পা বেঁধে ফেলে। বাড়ির বাইরে আরও কয়েকজন অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ডাকাতরা আলমারির চাবি নিয়ে নেয়। পরে আলমারি ও ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং দুই ভরির বেশি স্বর্ণের গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এলাকায় একসময় বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের তৎপরতা ছিল। সম্প্রতি এসব সংগঠনের সদস্যরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে তাদের আশঙ্কা। স্থানীয় বিভিন্ন মাঠে তাদের গোপন বৈঠক করতেও দেখা যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। নতিপোতা, কালিয়াবকরীসহ আশপাশের এলাকা এবং মেহেরপুরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের অনেকেই এ তৎপরতার সঙ্গে রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক মাসে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গরু লালন-পালন নিয়েও এখন ডাকাতির আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে কালিয়াবকরী গ্রামের অনেক যুবক প্রবাসে থাকায় তাদের বাড়িঘর নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছরে এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। হঠাৎ করে জনবহুল এলাকায় এমন সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ সন্ধ্যার পরপরই বাড়ি ফিরে যেতে বলছে; কিন্তু এর আগে এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল না। তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চান।

এলাকাবাসী দ্রুত ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল জোরদারের জন্য পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ নুরুল্লাহ এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দীন বলেন, ওই ঘটনায় এখনও কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।