সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলাতেও দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। এতে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ধানের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে কৃষকরাও। অনেক কৃষক বোতল বা প্লাস্টিকের পাত্র হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনমতো ডিজেল পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আবার খালি হাতেই ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার ধানচাষি মজিবর প্রধান জানান, তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাত্র ৩ লিটার তেল পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এই তেলে সব জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব না। এখন ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর এক মাস পর ধান কাটা শুরু হবে। এই গরমে সেচ না দিতে পারলে ফলন কমে যাবে।”

একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান কৃষক লাভলু মিয়া। তিনি বলেন, “তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বোতলে তেল দেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে শ্যালো ইঞ্জিন নিয়ে এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জমি শুকিয়ে যাবে, ফলনও কম হবে।”
সবুজ হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, “এই তীব্র গরমে প্রতিদিন সেচ দেওয়া জরুরি। কিন্তু পাম্পে ৩-৪ দিন পরপর তেল পাওয়া যাচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে না। ফুয়েল কার্ড থাকলে আগে তেল দেওয়া হচ্ছে—সাধারণ কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “এবার উপজেলায় ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এক মাস পর থেকে ধান কাটা শুরু হবে। অধিকাংশ জমি ডিজেলচালিত সেচের আওতায় থাকায় সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে এতে উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে আশা করছি। কৃষকদের যেন ভোগান্তি ছাড়াই ডিজেল পাওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এএইচ
জীবননগর অফিস 






















