০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন

“তিনের ঘরের নামতা মুখস্ত করুন, পিআর কী জিনিস বুঝে যাবেন”

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমীর অ্যাড. রুহুল আমিন বলেছেন, একসময় কেয়ারটেকার সরকার এই বিএনপি বুঝতো না। বুঝতো না বলেই আন্দোলনের মুখে ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছিল, তা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। আবার এখন গণভোট কী এটা তারা বুঝতে চায় না। অথচ ৭৮ সালে নিজেরাই গণভোট তৈরি করেছিল। উনারা পিআর কী জিনিস বুঝতে চায় না। আমরা বলি, তিনের ঘরের নামতা মুখস্ত করুন, আর পিআর কী জিনিস সেটা বুঝে যাবেন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন সহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি প্রার্থী রুহুল আমিন।

সমাবেশে রুহুল আমিন বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভেবেছিলাম দেশে ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি দল বারবার সেই পথ আটকে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একটি শীর্ষ দলের নেতা বলছেন, গণভোট না করেও যদি পিয়াজ বা আলুর গুদাম হয়, তাহলে নাকি বাংলাদেশ সুখের হবে। এতে পরিষ্কার, ২৪-এর চেতনা তিনি ধারণ করেননি, ছাত্র-জনতার আবেগও বুঝতে পারেননি।

পাঁচ দফা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দাবি খুবই সোজা, গণভোট দিন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, পিআর ব্যবস্থায় নির্বাচন করুন এবং দোসরদের বিচারের ব্যবস্থা করুন।

রাষ্ট্রযন্ত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ কারও একার নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কোনো দলের অধীনস্থ নয়। আপনারা পক্ষপাতিত্ব করে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি করবেন না। করলে বেনজিরের মতো পালাতে হবে, হারুনের মতো পালাতে হবে—রাস্তা খুজে পাবেন না। কর্মচারীর মতো কাজ করুন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন, তাহলে আপনাদের গায়ে মাছিও বসবে না ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দিনের ভোট রাতে বা রাতের ভোট দিনে এসব হতে দেব না। মানুষের অধিকার আমরা হরণ করব না এবং কাউকে করতে দেব না। আমার ভোট আমি দেব যোগ্য প্রার্থীকে দেব। এই নীতিতেই আমরা এগোতে চাই।

এর আগে, জেলা আমীর রুহুল আমিন ও জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে মিছিলে শতশত দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এরপর টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপুর সঞ্চালনায় রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন

“তিনের ঘরের নামতা মুখস্ত করুন, পিআর কী জিনিস বুঝে যাবেন”

প্রকাশের সময় : ০৭:১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আমীর অ্যাড. রুহুল আমিন বলেছেন, একসময় কেয়ারটেকার সরকার এই বিএনপি বুঝতো না। বুঝতো না বলেই আন্দোলনের মুখে ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছিল, তা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। আবার এখন গণভোট কী এটা তারা বুঝতে চায় না। অথচ ৭৮ সালে নিজেরাই গণভোট তৈরি করেছিল। উনারা পিআর কী জিনিস বুঝতে চায় না। আমরা বলি, তিনের ঘরের নামতা মুখস্ত করুন, আর পিআর কী জিনিস সেটা বুঝে যাবেন।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন সহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি প্রার্থী রুহুল আমিন।

সমাবেশে রুহুল আমিন বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা ভেবেছিলাম দেশে ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি দল বারবার সেই পথ আটকে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একটি শীর্ষ দলের নেতা বলছেন, গণভোট না করেও যদি পিয়াজ বা আলুর গুদাম হয়, তাহলে নাকি বাংলাদেশ সুখের হবে। এতে পরিষ্কার, ২৪-এর চেতনা তিনি ধারণ করেননি, ছাত্র-জনতার আবেগও বুঝতে পারেননি।

পাঁচ দফা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দাবি খুবই সোজা, গণভোট দিন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, পিআর ব্যবস্থায় নির্বাচন করুন এবং দোসরদের বিচারের ব্যবস্থা করুন।

রাষ্ট্রযন্ত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ কারও একার নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কোনো দলের অধীনস্থ নয়। আপনারা পক্ষপাতিত্ব করে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি করবেন না। করলে বেনজিরের মতো পালাতে হবে, হারুনের মতো পালাতে হবে—রাস্তা খুজে পাবেন না। কর্মচারীর মতো কাজ করুন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন, তাহলে আপনাদের গায়ে মাছিও বসবে না ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ভোট চুরি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। দিনের ভোট রাতে বা রাতের ভোট দিনে এসব হতে দেব না। মানুষের অধিকার আমরা হরণ করব না এবং কাউকে করতে দেব না। আমার ভোট আমি দেব যোগ্য প্রার্থীকে দেব। এই নীতিতেই আমরা এগোতে চাই।

এর আগে, জেলা আমীর রুহুল আমিন ও জেলা সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদের নেতৃত্বে মিছিলে শতশত দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এরপর টাউন ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপুর সঞ্চালনায় রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।