০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের নেতাকে কুপিয়ে জখম

Ada. Munna Telecom1

ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। হাতুড়ি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আহত ওই জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

আলমগীর শেখ তালমা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখ বলেন, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসন থেকে এ জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন শাহ আকরাম আলী। বুধবার রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রতন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তার পথ আটকায়। 

তারা আলমগীরকে বলেন, “তুই যা কইরা বেড়াইতেছিস তা সুবিধার লাগতেছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।” তখন আলমগীর অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই দুই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত আলমগীরকে দেখতে আসেন ফরিদপুর-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ আলমগীরের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনা ঘটেছে আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের হিসেবে।

তবে নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন বলেন, যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরীফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?

জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন আরও বলেন, যারা আলমগীরের ওপর হামলা করেছে তারা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। তারা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে জামায়াত সমর্থিত ঐক্য জোটের প্রার্থীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

জামায়াতের নেতাকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশের সময় : ০৪:২৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কদমতলী সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। হাতুড়ি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আহত ওই জামায়াত নেতার নাম আলমগীর শেখ (৩৬)। তিনি কদমতলী গ্রামের হালিম শেখের ছেলে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

আলমগীর শেখ তালমা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলমগীর শেখ বলেন, তিনি একজন জামায়াত নেতা। তার দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসন থেকে এ জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন শাহ আকরাম আলী। বুধবার রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কদমতলী সেতুর কাছে এলে কদমতলী গ্রামের রতন মোল্লার ছেলে রাশেদ মোল্লা ও নয়ন শেখের ছেলে মিলন শেখ তার পথ আটকায়। 

তারা আলমগীরকে বলেন, “তুই যা কইরা বেড়াইতেছিস তা সুবিধার লাগতেছে না, তোকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।” তখন আলমগীর অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি জামায়াত করেন এবং ভোট তাদের জোটের প্রার্থীকে দেবেন। এতে ওই দুই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত আলমগীরকে দেখতে আসেন ফরিদপুর-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী ও নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ আলমগীরের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনা ঘটেছে আলমগীরের সঙ্গে প্রতিপক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের হিসেবে।

তবে নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন বলেন, যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য এ ঘটনা না ঘটে, তাহলে বিএনপি নেতা শওকত শরীফ দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি কেন জানাচ্ছেন না?

জামায়াতের আমির মো. সোহরাব হোসেন আরও বলেন, যারা আলমগীরের ওপর হামলা করেছে তারা আগে আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। তারা বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলাসহ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, ঘটনা শোনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ব্যাপারে জামায়াত সমর্থিত ঐক্য জোটের প্রার্থীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।