০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পচন ধরা পা নিয়ে আসলেন বৃদ্ধ, ছুঁয়েও দেখলেন না চিকিৎসক

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম (৬৫) নামের এক অসহায় বৃদ্ধ এমন অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করেন। প্রায় নয় দিন আগে রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে তার পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পচন ধরেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চিকিৎসার আশায় তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে এসে তাকে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি চাকুরীজীবি ফারুক আহাম্মেদ জানান, তিনি নিজে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেন, একজন বৃদ্ধকে দেখলাম পা থেকে রক্ত পড়ছে এবং দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। তিনি অসহায়ভাবে হাসপাতালে এদিক-ওদিক ঘুরছিলেন। কথা বলে জানতে পারি তিনি মোমিনপুর রেলস্টেশনে থাকেন এবং চিকিৎসা নিতে এসেছেন, কিন্তু কেউ তাকে যথাযথভাবে সহযোগিতা করছে না। পরে আমি তাকে নিয়ে জরুরি বিভাগে যাই, সেখান থেকে অন্যত্র পাঠানো হয়। এরপর সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে জানা যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত নেই। দীর্ঘ ভোগান্তির পর আমরা তাকে ভর্তি করাতে সক্ষম হই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পরবর্তীতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ওয়ার্ডে এসে দূর থেকে রোগীকে দেখেই জানান, তার পা কেটে ফেলতে হতে পারে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া বা রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি একটু সামনের বেড়ে গিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, ‘দিনকাল যা হয়েছে স্টেশন থেকে লোক তুলে এনে এখানে চিকিৎসার করাচ্ছে’। তার এমন মন্তব্য রোগী ও স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা আরেক রোগীর স্বজন কনিকা বলেন, “চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাকে রেফার করার কথা বলেন। এমনকি তার মন্তব্যে মানবিকতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল, যা আমাদের কষ্ট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা এখানে চিকিৎসাধীন। ওই চিকিৎসক এখানে এসে ওই বৃদ্ধ রোগীকে দূর থেকে দেখলেন তিনি। উনার গায়ে হাত দিয়েও দেখলেন না। দূর থেকেই বললেন, আপনাকে দেখব না। আপনাকে রেফার্ড করা হলো কুষ্টিয়ায় বা রাজশাহীতে। এছাড়া উনি এমনও কথা বললেন যে,, ওদের মতন লোক স্টেশনে বসেই মরে, কারো কেউ দেখেনা।

ভুক্তভোগী নূর আলম বলেন, রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে পায়ে ক্ষত হয়। কয়েকদিন ধরে চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে এসে বারবার এদিক-ওদিক ঘুরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে দুই ব্যক্তি আমাকে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, রোগীর পায়ে কুকুরের কামড়জনিত ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং ড্রেসিং করা হচ্ছে। হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ থেকে ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তার সাথে কোন স্বজন নেই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পচন ধরা পা নিয়ে আসলেন বৃদ্ধ, ছুঁয়েও দেখলেন না চিকিৎসক

প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম (৬৫) নামের এক অসহায় বৃদ্ধ এমন অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করেন। প্রায় নয় দিন আগে রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে তার পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পচন ধরেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চিকিৎসার আশায় তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে এসে তাকে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে বেসরকারি চাকুরীজীবি ফারুক আহাম্মেদ জানান, তিনি নিজে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বলেন, একজন বৃদ্ধকে দেখলাম পা থেকে রক্ত পড়ছে এবং দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। তিনি অসহায়ভাবে হাসপাতালে এদিক-ওদিক ঘুরছিলেন। কথা বলে জানতে পারি তিনি মোমিনপুর রেলস্টেশনে থাকেন এবং চিকিৎসা নিতে এসেছেন, কিন্তু কেউ তাকে যথাযথভাবে সহযোগিতা করছে না। পরে আমি তাকে নিয়ে জরুরি বিভাগে যাই, সেখান থেকে অন্যত্র পাঠানো হয়। এরপর সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে জানা যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত নেই। দীর্ঘ ভোগান্তির পর আমরা তাকে ভর্তি করাতে সক্ষম হই।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “পরবর্তীতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ওয়ার্ডে এসে দূর থেকে রোগীকে দেখেই জানান, তার পা কেটে ফেলতে হতে পারে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া বা রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি একটু সামনের বেড়ে গিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, ‘দিনকাল যা হয়েছে স্টেশন থেকে লোক তুলে এনে এখানে চিকিৎসার করাচ্ছে’। তার এমন মন্তব্য রোগী ও স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা আরেক রোগীর স্বজন কনিকা বলেন, “চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করে তাকে রেফার করার কথা বলেন। এমনকি তার মন্তব্যে মানবিকতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল, যা আমাদের কষ্ট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা এখানে চিকিৎসাধীন। ওই চিকিৎসক এখানে এসে ওই বৃদ্ধ রোগীকে দূর থেকে দেখলেন তিনি। উনার গায়ে হাত দিয়েও দেখলেন না। দূর থেকেই বললেন, আপনাকে দেখব না। আপনাকে রেফার্ড করা হলো কুষ্টিয়ায় বা রাজশাহীতে। এছাড়া উনি এমনও কথা বললেন যে,, ওদের মতন লোক স্টেশনে বসেই মরে, কারো কেউ দেখেনা।

ভুক্তভোগী নূর আলম বলেন, রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে পায়ে ক্ষত হয়। কয়েকদিন ধরে চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে এসে বারবার এদিক-ওদিক ঘুরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে দুই ব্যক্তি আমাকে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, রোগীর পায়ে কুকুরের কামড়জনিত ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং ড্রেসিং করা হচ্ছে। হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ থেকে ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তার সাথে কোন স্বজন নেই।