০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ১২ শতক জমির সব পটল গাছ উপড়ে দিল দুর্বৃত্তরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কৃষক আব্দুল হালিম

মাত্র কয়েকদিন পরই ক্ষেতভর্তি পটল বাজারে তুলে সংসারে স্বস্তির হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষক আব্দুল হালিম। গত চার মাস ধরে দিন-রাতের পরিশ্রম, পরিচর্যা আর আশা-ভরসা মিশিয়ে ১২ শতক জমিতে গড়ে তুলেছিলেন পটল ক্ষেত। প্রতিটি গাছে পটল ধরেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক রাতেই ধুলিসাৎ হয়ে গেল। দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের প্রতিটি পটল গাছ উপড়ে ফেলে রেখে গেছে। সকালে নিজের ক্ষেতে এসে এমন দৃশ্য দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় এই কৃষক।

ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের বেনাগাড়ী মাঠে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে নিজের জমিতে গিয়ে কৃষক আব্দুল হালিম দেখতে পান, তার ১২ শতক জমির সব পটল গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে কয়েক মাসের শ্রম, সময় ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হালিম তিতুদহ গ্রামের আব্দুল মন্ডলের ছেলে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গত চার মাস ধরে নিজের শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে পটলের ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিটি গাছে ইতোমধ্যে পটল ধরেছিল এবং আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কে বা কারা রাতের অন্ধকারে তার সব গাছ উপড়ে ফেলে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, চার মাস ধরে সন্তানের মতো করে গাছগুলোর যত্ন নিয়েছি। প্রতিটি গাছে পটল ধরেছিল। ভাবছিলাম, এবার ফসল বিক্রি করে সংসারের কিছুটা অভাব দূর হবে। কিন্তু সকালে এসে দেখি সব শেষ। যদি আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা থেকেও থাকে, তাহলে আমার ক্ষতি করত। ফসলের কী দোষ ছিল? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, একজন কৃষকের ক্ষেতের সব পটল গাছ উপড়ে ফেলা শুধু একজন মানুষের ক্ষতি নয়, এটি কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম ও জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুজ্জামান রিগান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ইদানীং এলাকায় বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করার ঘটনা ঘটছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে। আমরা প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) নজরুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গা থেকে নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি আরিফ হোসেন: সন্ধান চেয়ে পরিবারের আকুতি

চুয়াডাঙ্গায় ১২ শতক জমির সব পটল গাছ উপড়ে দিল দুর্বৃত্তরা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন কৃষক আব্দুল হালিম

প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

মাত্র কয়েকদিন পরই ক্ষেতভর্তি পটল বাজারে তুলে সংসারে স্বস্তির হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষক আব্দুল হালিম। গত চার মাস ধরে দিন-রাতের পরিশ্রম, পরিচর্যা আর আশা-ভরসা মিশিয়ে ১২ শতক জমিতে গড়ে তুলেছিলেন পটল ক্ষেত। প্রতিটি গাছে পটল ধরেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক রাতেই ধুলিসাৎ হয়ে গেল। দুর্বৃত্তরা ক্ষেতের প্রতিটি পটল গাছ উপড়ে ফেলে রেখে গেছে। সকালে নিজের ক্ষেতে এসে এমন দৃশ্য দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন অসহায় এই কৃষক।

ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ গ্রামের বেনাগাড়ী মাঠে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে নিজের জমিতে গিয়ে কৃষক আব্দুল হালিম দেখতে পান, তার ১২ শতক জমির সব পটল গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এতে কয়েক মাসের শ্রম, সময় ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যায়।

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল হালিম তিতুদহ গ্রামের আব্দুল মন্ডলের ছেলে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, গত চার মাস ধরে নিজের শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় করে পটলের ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিটি গাছে ইতোমধ্যে পটল ধরেছিল এবং আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারজাত করার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কে বা কারা রাতের অন্ধকারে তার সব গাছ উপড়ে ফেলে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল হালিম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, চার মাস ধরে সন্তানের মতো করে গাছগুলোর যত্ন নিয়েছি। প্রতিটি গাছে পটল ধরেছিল। ভাবছিলাম, এবার ফসল বিক্রি করে সংসারের কিছুটা অভাব দূর হবে। কিন্তু সকালে এসে দেখি সব শেষ। যদি আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা থেকেও থাকে, তাহলে আমার ক্ষতি করত। ফসলের কী দোষ ছিল? আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, একজন কৃষকের ক্ষেতের সব পটল গাছ উপড়ে ফেলা শুধু একজন মানুষের ক্ষতি নয়, এটি কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম ও জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুজ্জামান রিগান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ইদানীং এলাকায় বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করার ঘটনা ঘটছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে। আমরা প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) নজরুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।