০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে মৃত্যু : একসঙ্গে জানাযা, পাশাপাশি কবরে দাফন

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারখাদায় পানিতে ডুবে নিহত দুই শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের ঈদগাঁ ময়দানে দুজনের একসাথে জানাযার নামায শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) জুমার পর গ্রামের দুই শিশু সামিউল্লাহ (৮) ও আবু হুজাইফা (১০) স্থানীয় মন্দিরে দূর্গাপূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাতে আঠারখাদা গ্রামের সেতুর নিচে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে নিশ্চিত হওয়া ও দুই পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মরদেহ দাফনের অনুমতি প্রদান করে পুলিশ।

নিহত দুই শিশু হলো- আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের আঠারখাদা গ্রামের নতুন মসজিদপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে সামিউল্লাহ ওরফে তাসিফ (৮) ও একই গ্রামের হুমায়ুনের ছেলে হুজাইফা (১০)।

ঘটনার রাতে আঠারখাদা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানিয়েছিলেন, শুক্রবার জুমার পর দুই শিশু পাশের একটি মন্দিরে দূর্গাপুজা দেখতে বের হয়েছিল। সন্ধায় বাড়িতে না ফেরায় খোজাখুজি করতে থাকে দুই পরিবারের সদস্যরা। সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আঠারখাদা গ্রামের সেতুর পাশে স্যান্ডেল ও জামা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ব্যক্তিরা। পরে মাথাভাঙ্গা নদীতে নেমে খোজাখুজি করলে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এক শিশু পানিতে পড়ে গেলে অপর শিশু উদ্ধার করতে সেও পানিতে নামে। এতে দুজনই ডুবে মারা যায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে দুই পরিবার যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শনিবার সকালে দুজনকে পাশাপাশি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ গণি মিয়া রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে উঠে এসেছে। অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপেক্ষিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে দুই শিশুর মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় পানিতে ডুবে মৃত্যু : একসঙ্গে জানাযা, পাশাপাশি কবরে দাফন

প্রকাশের সময় : ১২:৩০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৪

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আঠারখাদায় পানিতে ডুবে নিহত দুই শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের ঈদগাঁ ময়দানে দুজনের একসাথে জানাযার নামায শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) জুমার পর গ্রামের দুই শিশু সামিউল্লাহ (৮) ও আবু হুজাইফা (১০) স্থানীয় মন্দিরে দূর্গাপূজা দেখতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাতে আঠারখাদা গ্রামের সেতুর নিচে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দুই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে নিশ্চিত হওয়া ও দুই পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মরদেহ দাফনের অনুমতি প্রদান করে পুলিশ।

নিহত দুই শিশু হলো- আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের আঠারখাদা গ্রামের নতুন মসজিদপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে সামিউল্লাহ ওরফে তাসিফ (৮) ও একই গ্রামের হুমায়ুনের ছেলে হুজাইফা (১০)।

ঘটনার রাতে আঠারখাদা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানিয়েছিলেন, শুক্রবার জুমার পর দুই শিশু পাশের একটি মন্দিরে দূর্গাপুজা দেখতে বের হয়েছিল। সন্ধায় বাড়িতে না ফেরায় খোজাখুজি করতে থাকে দুই পরিবারের সদস্যরা। সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আঠারখাদা গ্রামের সেতুর পাশে স্যান্ডেল ও জামা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ব্যক্তিরা। পরে মাথাভাঙ্গা নদীতে নেমে খোজাখুজি করলে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এক শিশু পানিতে পড়ে গেলে অপর শিশু উদ্ধার করতে সেও পানিতে নামে। এতে দুজনই ডুবে মারা যায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে দুই পরিবার যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শনিবার সকালে দুজনকে পাশাপাশি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ গণি মিয়া রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে উঠে এসেছে। অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপেক্ষিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে দুই শিশুর মরদেহ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।