১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় সরঞ্জামসহ দুই পাখি শিকারী আটক, মুচলেকায় মুক্তি

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামের পূর্বপাড়া মাঠে পাখি শিকারের প্রস্তুতিকালে দুইজন শিকারীকে আটক করে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ। এ সময় তাদের নিকট থেকে পাখি শিকারের জাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা জাল ও সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শীতের শুরুতে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে রংবেরঙের অতিথি পাখি আকাশ আর জলাভূমিতে বিচরণ শুরু করে। এই পাখিগুলো যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি মানুষের মনেও এনে দেয় প্রশান্তি। কিন্তু কিছু অসাধু শিকারীর কারণে এ সৌন্দর্য বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। মাঠে শিকারীরা জাল পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সংবাদ পেয়ে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সেখানে তিনি দুজন শিকারীকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামের আনিকের ছেলে সন্তোষ (৪৫), একই এলাকার সুশীলের ছেলে জীবন (২৫)

এদিকে, ঘটনার পর সংগঠনের সভাপতি কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল আলমকে বিষয়টি জানান। তাঁর নির্দেশে শিকারীদের কাছের জাল ও শিকার–সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সেগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন–২০১২ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হলে আটক শিকারীরা মুচলেকায় অঙ্গীকার করে যে, তারা আর কখনো পাখি শিকার করবে না, এবং অন্যদেরও এ কাজে নিরুৎসাহিত করবেন।

অভিযান শেষে আহসান হাবীব শিপলু বলেন, আমরা নিয়মিত পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছি যাতে নির্বিচারে পাখি শিকার বন্ধ হয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পাখির ভূমিকা অপরিসীম।”

এ সময় সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, তামিম, জিসান শেখ, শাহাবুল, ইয়াসিন, নিরব আলী, আজিজ, মনিসহ স্থানীয় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া সকলেই সংগঠনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং পাখি সংরক্ষণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

নতুন বাড়িতে ওঠা হলো না চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারীর, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিভে গেল প্রাণ

চুয়াডাঙ্গায় সরঞ্জামসহ দুই পাখি শিকারী আটক, মুচলেকায় মুক্তি

প্রকাশের সময় : ০৬:২০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের হুলিয়ামারী গ্রামের পূর্বপাড়া মাঠে পাখি শিকারের প্রস্তুতিকালে দুইজন শিকারীকে আটক করে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ। এ সময় তাদের নিকট থেকে পাখি শিকারের জাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা জাল ও সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

শীতের শুরুতে প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে রংবেরঙের অতিথি পাখি আকাশ আর জলাভূমিতে বিচরণ শুরু করে। এই পাখিগুলো যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তেমনি মানুষের মনেও এনে দেয় প্রশান্তি। কিন্তু কিছু অসাধু শিকারীর কারণে এ সৌন্দর্য বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যার প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। মাঠে শিকারীরা জাল পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন সংবাদ পেয়ে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সেখানে তিনি দুজন শিকারীকে আটক করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের দেহাটি গ্রামের আনিকের ছেলে সন্তোষ (৪৫), একই এলাকার সুশীলের ছেলে জীবন (২৫)

এদিকে, ঘটনার পর সংগঠনের সভাপতি কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল আলমকে বিষয়টি জানান। তাঁর নির্দেশে শিকারীদের কাছের জাল ও শিকার–সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সেগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

পরবর্তীতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন–২০১২ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হলে আটক শিকারীরা মুচলেকায় অঙ্গীকার করে যে, তারা আর কখনো পাখি শিকার করবে না, এবং অন্যদেরও এ কাজে নিরুৎসাহিত করবেন।

অভিযান শেষে আহসান হাবীব শিপলু বলেন, আমরা নিয়মিত পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছি যাতে নির্বিচারে পাখি শিকার বন্ধ হয়। জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পাখির ভূমিকা অপরিসীম।”

এ সময় সংগঠনের সদস্য হাসানুজ্জামান রিগান, তামিম, জিসান শেখ, শাহাবুল, ইয়াসিন, নিরব আলী, আজিজ, মনিসহ স্থানীয় বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া সকলেই সংগঠনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং পাখি সংরক্ষণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।