০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় রোদের দেখা মিললেও কমেনি শীতের দাপট, ফের শৈত্যপ্রবাহের আভাস

Ada. Munna Telecom1

দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলেছে, তবে হিমেল বাতাসে শীতের দাপট কমেনি। হাড় কাঁপানো শীত, হিমশীতল বাতাস ও হালকা কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। গ্রাম ও শহরের জনপদে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। ওই দিন থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে মাসের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ২৯ ডিসেম্বরের পর আবারও জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দুদিন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। এরপর দুই-তিনদিন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে।

তীব্র শীতের কারণে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল গড়িয়ে সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা তেমন কমেনি। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় হিমেল বাতাসে শীত আরও কড়া হয়ে উঠছে।

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যখাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগে প্রতিদিন সদর হাসপাতালের আউটডোরে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের বড় অংশই শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় রোদের দেখা মিললেও কমেনি শীতের দাপট, ফের শৈত্যপ্রবাহের আভাস

প্রকাশের সময় : ১১:৪০:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে। সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলেছে, তবে হিমেল বাতাসে শীতের দাপট কমেনি। হাড় কাঁপানো শীত, হিমশীতল বাতাস ও হালকা কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। গ্রাম ও শহরের জনপদে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। ওই দিন থেকেই চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে মাসের শেষ দিকে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ২৯ ডিসেম্বরের পর আবারও জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দুদিন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে। এরপর দুই-তিনদিন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হতে পারে।

তীব্র শীতের কারণে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল গড়িয়ে সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা তেমন কমেনি। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় হিমেল বাতাসে শীত আরও কড়া হয়ে উঠছে।

শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যখাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। রোটাভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা শীতজনিত রোগে প্রতিদিন সদর হাসপাতালের আউটডোরে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের বড় অংশই শিশু ও বয়স্ক মানুষ।