চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নির্বাচনী আলোচনা কেন্দ্র করে তর্কবিতর্কের জেরে এক জামায়াতে ইসলামীর কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তি আবু জাফর (৪৫), যিনি দাড়িপাল্লা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ তারই চাচাতো ভাই এবং তিনি বিএনপির কর্মী বলে জানা গেছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা উত্তরপাড়ার একটি চা দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আবু জাফর দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা গ্রামের মাঝের পাড়ার মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
আবু জাফরের অভিযোগ, তিনি চা পান করতে দোকানে গেলে সেখানে বিএনপির কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন। এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকরা বলেন কিভাবে জামায়াতের প্রার্থী বিজয় লাভ করতে পারে? উত্তরে আমি বলেছি, সম্ভাব্য আছে বলেছি, বিজয় হবেই এমনটা বলেনি। এরপরই কথা কাটাকাটি শুরু হয় আমার। একপর্যায়ে আব্দুল ওয়াদুদ তার হাতে থাকা একটি টর্চলাইট দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে আমার হাত ও মাথায় আঘাত লাগে।

পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবু জাফর নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তার হাতে ও কপালে দুটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতিপোতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ইসমাইল হোসেন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রাথমিভাবে জেনেছি, নির্বাচন কেন্দ্রিক তর্কের জেরে বিএনপির কর্মী ওয়াদুদ আমাদের কর্মী আবু জাফরকে মারধর করেছেন। আমরা এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এ ঘটনার সম্পর্কে আমার জানা নেই আমি খোঁজ নিচ্ছি।
দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দুইজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে জানা গেছে। চায়ের দোকানে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে আব্দুল ওয়াদুদ টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















