চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের ধাক্কায় বেশ কয়েজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমাবেশে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের ধাক্কাধাক্কির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে তীব্র অন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা। তবে জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ ও গণমিছিলের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে স্থানীয় দৈনিক খাসখবর পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক আলমগীর রনি বলেন, ‘ মঙ্গলবার বিকেলে টাউন ফুটবল মাঠে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠান ছিলো। সমাবেশ থেকে ভিডিও ফুটেজ ও ছবি নিয়ে আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার প্রতিনিধি মুন্নাকে সাথে নিয়ে সমাবেশ থেকে গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য এগোতে থাকি। হঠাৎ জামায়াতের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ জেলা জামায়াত আমিরসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে গেট দিয়ে দ্রুত বের হতে থাকেন। এ সময় তারা গেটের সামনে উপস্থিত সকলকে সরিয়ে দেয়ার জন্য ধাক্কা মারতে থাকেন। ওই ধাকায় আমি ও মুন্না পড়ে যায়। আমার বাম পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হই। ওনারা যদি শৃঙ্খলার সাথে বলতেন সরে যেতে আমরাসহ সকলেই সরে যেতাম কিন্তু কোনোকিছু না বলে এভাবে ধাক্কা মারা উচিত হয়নি। পরে দেখতে পেলাম স্থানীয় অনলাইন পত্রিকার ‘রেডিও চুয়াডাঙ্গা’র দুজন প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অর্ণব আহমেদ আশিক ওই ধাক্কায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। জামায়াতের মতো সু-শৃঙ্খল দলের কাছে সাংবাদিকরা এটা আশা করে না।’
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার স্টাফ রিপোর্টার মুন্না রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর মত এত বড় একটি দলের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করিনি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকরা বদ্ধপরিকর। সাংবাদিকদের বলা হয় সমাজের আয়না। সেই সাংবাদিকদের যদি এত বড় একটি দলের কাছ থেকে হেনস্তার শিকার হতে হয় এটি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। চুয়াডাঙ্গা শহরে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছে। এমনটি আমরা আশা করিনি। আমরা এটির একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
রেডিও চুয়াডাঙ্গার নিজস্ব প্রতিবেদক অর্ণব আহমেদ আশিক বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর প্রোগ্রামে গিয়ে স্টেজের সামনে যাওয়ার সময় পরিচয় দেয়ার পরও স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা আমাকে আটকে দেয়। আমি গণমাধ্যম কর্মী পরিচয় দেওয়ার পরেও স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা আমার সাথে উগ্র মেজাজি হয়ে কথা বলেন। পরবর্তীতে র্যালি শুরু হলে ভিডিও করতে গেলে আবারো স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা আমি সহ আমার সিনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মীদেরকে ধাক্কা দিতে থাকে ও তাদের হাতে থাকা লাঠি আমার পায়ে একটি বারি দেয়। এতে আমি আহত হয়। পরে সদর হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।’
জাতীয় দৈনিক দেশ বুলেটিন ও রেডিও চুয়াডাঙ্গার নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সমাবেশের ঢোকার আগে পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তারা আমাকে মঞ্চের সামনে যেতে দেয়নি আমি দূর থেকে ফুটেজ নিয়েছিলাম। তারপর যখন র্যালি বের হয় তখন ফুটেজ নেওয়ার জন্য র্যালির সামনে হাঁটছিলাম তখন জামাত ইসলামের কর্মীরা আমাকে ধাক্কা মারে। আমি তাদেরকে বলি আমি সাংবাদিক, আমাকে ধাক্কা মারছেন কেন? তখন তারা আমাকে বলে আমাদের কোন সাংবাদিক লাগবেনা। ঘটনাটি দুংখজনক। আশা করি জামায়াতের আমির এ ঘটনায় সুষ্ট পদক্ষেপ নেবেন।’
সময় টেলিভিশনের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির ক্যামেরাপারসন আনিস বলেন, ‘ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ ও গণমিছিলে নিউজ সংগ্রহের সময় একাধিক বার আমি ও আমার সংবাদকর্মী ভাইদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন কী ধক্কা ধাক্কির কারণে আমার মোবাইল টা রাস্তায় পরে যায়। মোবাইল টা রাস্তা থেকে সংগ্রহ করে আমি এক সেচ্ছাসেবী কে বল্লাম ভাই আমরা তো সংবাদকর্মী। সে উত্তরে বলেন আমাদের মিডিয়ার দরকার নাই। এই ঘটনার পর মিছিল থেকে বেরিয়ে চলে এসেছি। আমার প্রশ্ন সংবাদকর্মীদের প্রয়োজন না থাকলে দাওয়াত কেনো দেওয়া হয়।’
এছাড়াও, এঘটনায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার এক প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হতাহত হন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার বলেন, ঘটনাটি অত্যান্ত দুংখজনক। ছবি-ভিডিও এর মাধ্যমে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই স্বেচ্ছাসেবককে শনাক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়তের আমির রুহুল আমিন সুষ্ঠ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সাথে বসে সুষ্ঠ সমাধান করা হবে।
এএইচ
রেডিও চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক 






















