০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হাসপাতালে সরবরাহ নেই অ্যান্টিভেনম

চুয়াডাঙ্গায় গাড়ি বন্ধক রেখে সাপের অ্যান্টিভেনম নিয়েও বাঁচানো গেল না সেলিমকে

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া গ্রামে সাপের কামড়ে সেলিম হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) ভোর অনুমানিক ৬টায় দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত সেলিম হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামের মৃত. মনির উদ্দিনের ছেলে।

আরও পড়ুন

নিহতের খালু রবিউল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, রাতে সাপে কামড়ানোর পরই একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে সদর হাসপাতালে নেয়া হয় সেলিমকে। হাসপাতালে সরকারিভাবে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) সাপ্লাই ছিল না। বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কেনার পরামর্শ দেয়া হয়। অত্যান্ত দারিদ্র পরিবার তারা। সঙ্গে করে মাত্র সাত হাজার টাকা নিয়ে এসেছিল। আর এক ডোজ অ্যান্টিভেনমের (১০ পিচ) মূল্য ১৪ হাজার টাকা। ফার্মেসি দোকানদার বাকি দিতে না চাওয়ায় ভাড়া করা মাইক্রোবাসের চাবি বন্ধক রাখা হয়। এরপরই এক ডোজ অ্যান্টিভেনম আমাদের দেন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে আসার প্রায় এক ঘন্টা পর অ্যান্টিভেনম তার শরীরে পুশ করা হয়। এরপরও সেলিমকে বাচানো গেল না। যদি হাসপাতালে কিংবা ফার্মেসি থেকে তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যেত তাহলে হয়তো সেলিমকে বাচানো সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাতে যে কোন সময় একটি বিষধর সাপ সেলিমের গলায় পেচিয়ে ধরে গলাতেই কামড় দেয়। এরপরই রাত ২টার দিকে সেলিমকে উদ্ধার করে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেলিমের দুটি ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তার মা অন্যের বাড়িতে কর্ম করেন। সেলিমও দিনমজুর ছিলেন। তার মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। আজ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার হাদিউজ্জামান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রায় মাস খানেকের বেশি দিন যাবত হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সাপ্লাই নেই। বেশ কয়েকবার ঢাকাতে যোগাযোগ করেছি। এখনো অ্যান্টিভেনম দেয়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোরশেদ আলম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন,  সাপের কামড়ে রাতে একজন যুবক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। অ্যান্টিভেনম পুশ করা হয়েছিল। পরে ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

হাসপাতালে সরবরাহ নেই অ্যান্টিভেনম

চুয়াডাঙ্গায় গাড়ি বন্ধক রেখে সাপের অ্যান্টিভেনম নিয়েও বাঁচানো গেল না সেলিমকে

প্রকাশের সময় : ০২:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া গ্রামে সাপের কামড়ে সেলিম হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

আজ সোমবার (২১ অক্টোবর) ভোর অনুমানিক ৬টায় দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত সেলিম হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের খাসপাড়া গ্রামের মৃত. মনির উদ্দিনের ছেলে।

আরও পড়ুন

নিহতের খালু রবিউল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, রাতে সাপে কামড়ানোর পরই একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে সদর হাসপাতালে নেয়া হয় সেলিমকে। হাসপাতালে সরকারিভাবে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) সাপ্লাই ছিল না। বাইরে থেকে অ্যান্টিভেনম কেনার পরামর্শ দেয়া হয়। অত্যান্ত দারিদ্র পরিবার তারা। সঙ্গে করে মাত্র সাত হাজার টাকা নিয়ে এসেছিল। আর এক ডোজ অ্যান্টিভেনমের (১০ পিচ) মূল্য ১৪ হাজার টাকা। ফার্মেসি দোকানদার বাকি দিতে না চাওয়ায় ভাড়া করা মাইক্রোবাসের চাবি বন্ধক রাখা হয়। এরপরই এক ডোজ অ্যান্টিভেনম আমাদের দেন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে আসার প্রায় এক ঘন্টা পর অ্যান্টিভেনম তার শরীরে পুশ করা হয়। এরপরও সেলিমকে বাচানো গেল না। যদি হাসপাতালে কিংবা ফার্মেসি থেকে তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যেত তাহলে হয়তো সেলিমকে বাচানো সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। রাতে যে কোন সময় একটি বিষধর সাপ সেলিমের গলায় পেচিয়ে ধরে গলাতেই কামড় দেয়। এরপরই রাত ২টার দিকে সেলিমকে উদ্ধার করে মাইক্রোবাস ভাড়া করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেলিমের দুটি ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। তার মা অন্যের বাড়িতে কর্ম করেন। সেলিমও দিনমজুর ছিলেন। তার মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। আজ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্টোর কিপার হাদিউজ্জামান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রায় মাস খানেকের বেশি দিন যাবত হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম সাপ্লাই নেই। বেশ কয়েকবার ঢাকাতে যোগাযোগ করেছি। এখনো অ্যান্টিভেনম দেয়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোরশেদ আলম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন,  সাপের কামড়ে রাতে একজন যুবক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। অ্যান্টিভেনম পুশ করা হয়েছিল। পরে ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।