চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় হঠাৎ কয়েক মিনিটের অতি তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে দুই গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ চাপায় আকমান আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হারদি ইউনিয়নের হারদি ও উদয়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আকমান আলী উদয়পুর গ্রামের মৃত আতাহার আলী মন্ডলের ছেলে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এ কালবৈশাখীর তীব্র আঘাতে অন্তত ৪০-৫০টি ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ চাপায় একজন বৃদ্ধা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং দুইজন আহত হয়েছেন। দুই গ্রামে বহু গাছ উপড়ে পড়ে এবং অন্তত সাতটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে সড়কে পড়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাতেই ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন।

আলমডাঙ্গা ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল্লাহ আল-মামুন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় গাছ চাপায় একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আরও দুজন আহত হয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে স্বজনহারাদের আহাজারি আর ক্ষতিগ্রস্তদের হাহাকার। কেউ ভাঙা টিন কুড়িয়ে নিচ্ছেন, কেউবা বসতঘর মেরামতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধা আমেনা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, ৩০–৩৫ বছর আগে একবার এমন ঝড় দেখেছিলাম। তারাবির নামাজ শেষে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়, মুহূর্তেই ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়।
কলেজছাত্রী সাবিয়া খাতুন গণমাধ্যমকে জানান, ঝড়ে আমাদের সবকিছু প্রায় শেষ হয়ে গেছে। গোয়ালঘরের ওপর গাছ পড়ে গরু চাপা পড়ে, পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গরুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আকস্মিক ঝড়ে গাছ চাপায় একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন দুজন। প্রায় ৪০-৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ সহায়তা প্রদান করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, অনেকেই এটিকে টর্নেডো বলছেন, তবে এটি মূলত অতি তীব্র কালবৈশাখী ঝড়। টর্নেডো সাধারণত আরও সীমিত এলাকায় প্রভাব ফেলে।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 























