চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগরে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা পলি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
এছাড়া মুখে বিষ দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
তবে নিহত পলির পরিবারের দাবি, পলি কখনোই আত্মহত্যা করবে না। তাকে পিটিয়ে হত্যার পর মুখে বিষ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তার বাবা-মা পলাতক রয়েছেন।
নিহত পলি খাতুন আলমডাঙ্গার হারদি ইউনিয়নের গোপালদিয়াড় গ্রামের ফরিদ আলীর মেয়ে।
অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ইসলাম একই উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের আসাননগর পশ্চিমপাড়ার গিয়াস উদ্দীনের ছেলে।
আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে পলি খাতুনের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে পলি খাতুনের সঙ্গে সাংসারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে কলহ চলে আসছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে স্ত্রী পলি খাতুনকে ঘরে আটকে মারপিট করে তাঁকে হত্যা করে স্বামী রবিউল ইসলাম। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্ত্রীর লাশ ঘরের মেঝেতে রেখে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রবিউল চিৎকার করতে থাকেন।
পরে রবিউল তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও পলি বিষপানে আত্মহত্যার খবর জানান। শ্বশুর পরিবারের লোকজন বাড়িতে আসলে তোপের মুখে লাশ ফেলে বাড়ি থেকে অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ইসলাম তাঁর বাবা গিয়াস উদ্দীন ও মা পারুলা খাতুন পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাত ১০ টার দিকে পলি খাতুনের উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহত পলি খাতুনের বাবা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, মেয়ে জামাই রবিউল এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় আমার মেয়ের উপর বিভিন্ন সময় অমানবিক নির্যাতন করতো। মঙ্গলবার বিকেলে আমার মেয়েকে রবিউল বেধড়ক মারপিট করায় সে আমার বাড়িতে চলে আসছিল। এ সময় রাস্তা থেকে ধরে বাড়িতে এসে পিটিয়ে হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, পলির লাশ ভিন্ন খাতে নিতে তাঁর মুখে বিষ দেওয়া হয়। তাদের দাম্পত্য জিবনে ৭ মাসের মেয়ে ও ২ বছরে ছেলে সন্তান রয়েছে। পলি ৬ মাসে অন্তঃসত্ত্বা ছিলও বলে তিনি জানান। এ ঘটনার পর মেয়ে জামায়সহ তার বাবা-মা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
আলমডাঙ্গা থানার পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মাসুদুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে এটি হত্যা কিনা।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























