চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুরে প্রতীকি দাড়িপাল্লা টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি, যুবদল নেতা এবং নারী ইউপি সদস্যসহ সাতজনকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আহতদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরমধ্যে নারী ইউপি সদস্যসহ পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করেন চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে কুমারী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এ ঘটনার খবর পেয়ে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা বিএনপির সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, জেলা জাসাস সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মীর উজ্জ্বল হোসেন, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের আহবায়ক নাজিম উদ্দীন মোল্লা, সদস্য সচিব সাইফুল আলম কনক, কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের তথ্যমতে আহত হয়ে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন তারা হলেন, কুমারি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (১,২,৩) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকসানা খাতুন (৫০), তার স্বামী ইউনিয়ন কৃষকদলের জয়েন্ট সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম (৫৫), কুমারি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজেল হোসেন (৫০), আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুল হক কনক (৩৫), সদস্য শাহাজাহান (৩৫), কুমারি গ্রামের মুরাদ হোসেন (৩৮) ও চকবণ্ডবিল গ্রামের শরীফুল ইসলাম (৪০)।

এদিকে, এ ঘটনায় জামায়াত কর্মী ওল্টূ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
আহত নারী ইউপি সদস্য রোকসানা রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, প্রতিবেশি মৃত. আসাবুল ইসলামের ছেলে জামায়াতের সমর্থক মাসুম আমার বাড়ির সাথে জামায়াতে ইসলামের দাড়িপাল্লার বানানো প্রতীকি টাঙাচ্ছিল। যেহেতু আমরা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাই আমার বাড়ির পাশে না টাঙানোর অনুরোধ করে তার নিজের বাড়ির পাশে টাঙাতে বলি। এতে আমাদের সঙ্গে মাসুমের কথাকাটাকাটি হয়। এরপরই মাসুম স্থানীয় ওল্টুসহ কয়েকজন ডে্কে নিয়ে আমাদের উপর ধারাল অস্ত্র ও লাঠিসোঠা দিয়ে অতর্কিত হামলা করে। এতে আমার স্বামী ইউনিয়ন কৃষকদলের জয়েন্ট সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলাম ও আমি গুরুতর আহত হয়।
আলমডাঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য শাহাজাহান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এই মারামারির ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না। বিকেলে আমরা একটি অনুষ্ঠান শেষ করে শ্যামপুর গ্রামের মধ্যে দিয়ে ফিরছিলাম। এ সময় গণ্ডগোলের স্থানে পৌছালে তারা মনে করে আমরা বিএনপির পক্ষে এসেছি। কিছু বোঝার আগেই ২০-৩০ জনের একটি দল লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় আমাদের সকল আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কুমারী ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, বাড়িতে গিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা করেছে যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। এতে নেতৃত্ব দেয় যুবলীগের থানা পর্যায়ের নেতা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওল্টু। যে বর্তমানে জামায়াত ইসলামীতে যোগ দিয়েছে। তারা রাম দা, রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে। শ্যামপুরে যে হামলা হয়েছে, সেখানে কুমারী থেকে সন্ত্রাসীরা গেছে। কারো মাথা ফেটেছে, কারো হাত ভেঙ্গেছে। ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙ্গা হয়েছে এবং এখনো একটি মোটরসাইকেল আটকে রেখেছে তারা।

কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার পরিষদের একজন মহিলা কাউন্সিলরের বাড়িতে গিয়ে যুবলীগের সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে হামলা করে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। আমাদের আসার খবরে তারা পালিয়েছে। কিন্তু আমার পরিষদের মহিলা কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকে ব্যাপক মারধর করেছে এবং বাড়ি ঘর ভেঙ্গে দিয়েছে। তাঁদেরকে উদ্ধার করে আমরা আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ফিরে আসার সময় পুনরায় শ্যামপুরে ওই যুবলীগের সন্ত্রাসী ওল্টুর নেতৃত্বে আরও ৩০/৪০ জনকে দেশীয় রডসহ অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে এবার আমাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রোকন গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে যুবলীগের কর্মীরা তাদের নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে। এতে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের ৬-৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত ওল্টু অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে আমাদের মহল্লায় প্রতীকী দাড়িপাল্লা টাঙাতে বাধা দেন নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামী৷ এ নিয়ে ওই সময় তর্ক বিতর্ক হয়। পরে আমরা চলে আসি।
তিনি আরও বলেন, সন্ধার পর স্থানীয় বাজারে অবস্থানকালে আমার মেয়ে মোবাইলে জানায়, আমার বাড়িতে বিএনপি সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা-ভাংচুর চালাচ্ছে। মেয়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাননাশের হুমকি দেয় ইকরামুল ও শান্তি৷ খবর পেয়ে স্থানীয় এবং দলীয় লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে যায়। এ সময় তারা আমাদের উপর লাঠিসোঁটা ও জেআই পাইপ দিয়ে অতর্কিত হামলা করে। এতে আমি আহত হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের আমির শফিউল আলম বকুল গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের জামায়াতে নেতাকর্মীরা দলীয় দাঁড়িপাল্লা টাঙাতে গেলে বিএনপির মহিলা ইউপি সদস্য ও তাঁর স্বামী প্রতিহত করেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে তর্কতর্কি হলেও পরবর্তীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করে। এই নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি।
আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কালাম আজাদ রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আহত হয়ে ছয়জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ভর্তি রেখে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মাসুদুর রহমান রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দাড়িপাল্লা প্রতীক টাঙানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ হিসেবে শুরু হলেও পরে তা দুই রাজনৈতিক পক্ষের সংঘর্ষে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
এএইচ
নিজস্ব প্রতিবেদক 























