০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চুয়াডাঙ্গার পদ্মবিলায় পথসভায় শরীফুজ্জামান শরীফ

‘আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু ভোট চাইতে নয়, দুঃখ-দুর্দশা শুনতে এসেছি’

Ada. Munna Telecom1

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশি ও জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু ভোট চাইতে নয়, আপনাদের কষ্ট শুনতে। বলুন, একজন কৃষক হিসেবে কি সারের ন্যায্য দাম পান? একজন শ্রমিক কি পরিশ্রমের ন্যায্য মজুরি পান? বাজারে চাল-ডালের দাম দেখে কি আপনাদের ঘুম উড়ে যায় না? এই কষ্টই দুঃশাসনের ফসল।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের হায়দারপুর মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

তিনি বলেন, ‘আজ দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা। এটি কেবল সাময়িক সংকট নয়, বরং অর্থনীতির ভঙ্গুরতার প্রতিফলন। বিএনপির ১০ দফা দাবির মধ্যেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।’

শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন,
‘তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফায় আমরা অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছি। এই কমিশন কঠোর হাতে সিন্ডিকেট ও বাজার কারসাজি ভেঙে দেবে। ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী, আমরা শুধু প্রবৃদ্ধি নয়—সুষম সম্পদ বণ্টন ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি নিশ্চিত করব।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির স্মরণ করে বলেন,
‘জিয়া সাহেব বলেছিলেন, দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হলো জনগণ ও বেসরকারি খাত। আমরা সেই নীতির দিকেই ফিরছি—যেখানে গ্রামের প্রতিটি মানুষ আত্মনির্ভর হবে।’

গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশ—আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হবে জনমুখী, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় শ্রমের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। চুয়াডাঙ্গার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সকলেই ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে শরিক হোন।

তিনি আরও যোগ করেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা হলো গ্রামের পা ফাটা মানুষের মুক্তির সনদ। আমাদের লক্ষ্য এই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

হায়দারপুর মোড়ের পথসভা শেষে শরীফুজ্জামান শরীফ ধানের শীষের পক্ষে পায়ে হেঁটে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর খেজুরা, নফরকান্দী, হোগলডাঙ্গা, নিমতলা, কুশোডাঙ্গা, পিরোজখালি ও বুইচিতলা এলাকায় প্রচারণা চালান তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুল হক মহাবুব, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হাফিজ উদ্দিন হাবলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোবর জোয়ার্দ্দার হিমু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রায়হান কাজল, এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি খন্দকার আরিফ, যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান ও নাইম আহমদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার পদ্মবিলায় পথসভায় শরীফুজ্জামান শরীফ

‘আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু ভোট চাইতে নয়, দুঃখ-দুর্দশা শুনতে এসেছি’

প্রকাশের সময় : ১০:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশি ও জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেছেন, আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু ভোট চাইতে নয়, আপনাদের কষ্ট শুনতে। বলুন, একজন কৃষক হিসেবে কি সারের ন্যায্য দাম পান? একজন শ্রমিক কি পরিশ্রমের ন্যায্য মজুরি পান? বাজারে চাল-ডালের দাম দেখে কি আপনাদের ঘুম উড়ে যায় না? এই কষ্টই দুঃশাসনের ফসল।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের হায়দারপুর মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

তিনি বলেন, ‘আজ দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা। এটি কেবল সাময়িক সংকট নয়, বরং অর্থনীতির ভঙ্গুরতার প্রতিফলন। বিএনপির ১০ দফা দাবির মধ্যেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।’

শরীফুজ্জামান শরীফ আরও বলেন,
‘তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফায় আমরা অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছি। এই কমিশন কঠোর হাতে সিন্ডিকেট ও বাজার কারসাজি ভেঙে দেবে। ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী, আমরা শুধু প্রবৃদ্ধি নয়—সুষম সম্পদ বণ্টন ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি নিশ্চিত করব।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির স্মরণ করে বলেন,
‘জিয়া সাহেব বলেছিলেন, দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হলো জনগণ ও বেসরকারি খাত। আমরা সেই নীতির দিকেই ফিরছি—যেখানে গ্রামের প্রতিটি মানুষ আত্মনির্ভর হবে।’

গ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশ—আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হবে জনমুখী, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় শ্রমের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। চুয়াডাঙ্গার কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী—সকলেই ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে শরিক হোন।

তিনি আরও যোগ করেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা হলো গ্রামের পা ফাটা মানুষের মুক্তির সনদ। আমাদের লক্ষ্য এই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

হায়দারপুর মোড়ের পথসভা শেষে শরীফুজ্জামান শরীফ ধানের শীষের পক্ষে পায়ে হেঁটে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর খেজুরা, নফরকান্দী, হোগলডাঙ্গা, নিমতলা, কুশোডাঙ্গা, পিরোজখালি ও বুইচিতলা এলাকায় প্রচারণা চালান তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুল হক মহাবুব, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেন জোয়ার্দ্দার সোনা, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হাফিজ উদ্দিন হাবলু, সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু, পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোবর জোয়ার্দ্দার হিমু, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রায়হান কাজল, এবং জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি খন্দকার আরিফ, যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান ও নাইম আহমদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।