০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ

জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারসহ জড়িতদের খুঁজতে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

Ada. Munna Telecom1

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।

‘অনলাইন জুয়ার প্রচারণায় টিকটকার-তারকারা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনগুলো যুক্ত করে অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমস এবং সামাজিক ও মূলধারার মাধ্যমে তারকাদের এসব বিজ্ঞাপন প্রচারের বিস্তার রোধে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তানজিম রাফিদ নামে রাজধানীর এক বাসিন্দা রিট করেন। গতকাল রোববার (২৭ এপ্রিল) রিটের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী।

আরও পড়ুন

পরে আইনজীবী মাহিন এম রহমান বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্ট সাত বিবাদীর একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে; কমিটি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিতে পারবেন। বিজ্ঞাপন প্রচারসহ অনলাইনে জুয়া/বেটিংয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন চিহ্নিত করা, এগুলো কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং এগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত কমিটিকে খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। আদালতে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’

সাত বিবাদীকে সাতজন প্রতিনিধি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কোন কোন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন অনলাইনে জুয়া/বেটিং হয়, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।’

সংবিধানে ১৮(২) ও ৩১ অনুচ্ছেদ, সংশ্লিষ্ট আইনের বিধিবিধান লঙ্ঘন করে কোনো সামাজিক ও মূল ধারার মাধ্যমের প্লাটফর্মে জনপ্রিয় তারকাদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার এবং অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমের কার্যক্রম ও বিস্তার রোধে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিস্তার বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

মূলধারার কিছু গণমাধ্যমের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তারকার দ্বারা অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম রাফিদ। রিটে আবেদনে অনলাইন জুয়া, বেটিং সাইট ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ

জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারসহ জড়িতদের খুঁজতে কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।

‘অনলাইন জুয়ার প্রচারণায় টিকটকার-তারকারা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনগুলো যুক্ত করে অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমস এবং সামাজিক ও মূলধারার মাধ্যমে তারকাদের এসব বিজ্ঞাপন প্রচারের বিস্তার রোধে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে তানজিম রাফিদ নামে রাজধানীর এক বাসিন্দা রিট করেন। গতকাল রোববার (২৭ এপ্রিল) রিটের ওপর শুনানি হয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহিন এম রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী।

আরও পড়ুন

পরে আইনজীবী মাহিন এম রহমান বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্ট সাত বিবাদীর একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে; কমিটি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিতে পারবেন। বিজ্ঞাপন প্রচারসহ অনলাইনে জুয়া/বেটিংয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন চিহ্নিত করা, এগুলো কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং এগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত কমিটিকে খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। আদালতে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’

সাত বিবাদীকে সাতজন প্রতিনিধি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কোন কোন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ্লিকেশন অনলাইনে জুয়া/বেটিং হয়, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে।’

সংবিধানে ১৮(২) ও ৩১ অনুচ্ছেদ, সংশ্লিষ্ট আইনের বিধিবিধান লঙ্ঘন করে কোনো সামাজিক ও মূল ধারার মাধ্যমের প্লাটফর্মে জনপ্রিয় তারকাদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার এবং অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমের কার্যক্রম ও বিস্তার রোধে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ধরনের অনলাইন জুয়া/বেটিং গেমের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিস্তার বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

মূলধারার কিছু গণমাধ্যমের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তারকার দ্বারা অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম রাফিদ। রিটে আবেদনে অনলাইন জুয়া, বেটিং সাইট ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।