চুয়াডাঙ্গায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আজ থেকে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনের পর চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউস এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মশক নিধন ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ ও পৌরসভার পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে জেলায় এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
পৌরসভা সূত্রে জানানো হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ড্রেন পরিষ্কার, ঝোপঝাড় অপসারণ এবং নিয়মিত মশক নিধন স্প্রে (লার্ভিসাইড ও ফগার) কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দেশজুড়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনায় এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “শুধু সরকারি দপ্তর নয়, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতি শনিবার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। আগামী ২৫ তারিখ চুয়াডাঙ্গা শহরের ১৫টি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা কয়েকটি ডোবা দেখতে পেয়েছি যেগুলো কচুরিপানা ও পদ্মপাতায় ভরা। এলাকাবাসীকে এসব ডোবা এবং বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নাঈম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিস মোমতাজ, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুর রহমান, টিটিসির অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, খালিদ মাহমুদ মিল্টন, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমীর হাসিবুল ইসলাম, নায়েবে আমির মাহবুব আশিক, সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল, সরকারি সেক্রেটারি ইমরান হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ ঝন্টু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ চুয়াডাঙ্গা ভলান্টিয়ার্স এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















