০২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৬২ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে কেরুতে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন

Ada. Munna Telecom1

এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দেশের বৃহত্তম সরকারি চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ৮৮তম আখ মাড়াই মৌসুম।

৬২ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েও শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মিলের কেইন ক্যারিয়ারে আখ নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমের উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

উদ্বোধনের আগে মিল প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা বর্তমানে ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬৪ দিনে ৭২ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৭২ দিনে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২৫৬ টন চিনি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবস্থার পরিবর্তন হলেও মিলের আর্থিক চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৮ মৌসুমেই লোকসানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই চিনিকল। বর্তমানে মিলের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। তবে মিলজোনে আখ চাষের পরিমাণ কমে যাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মিলজোন এলাকায় এবার মোট ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখ রয়েছে—নিজেদের খামারে ১ হাজার ৬২৫ একর এবং চাষিদের জমিতে ৩ হাজার ৯৩৭ একর। চলতি মৌসুমে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় সরকার প্রতি মণ (৪০ কেজি) আখের দাম ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্য বাড়লেও সে তুলনায় আখের দাম বাড়েনি বলে অভিযোগ তুলেছেন চাষিরা। তাঁদের মতে, ন্যায্যমূল্য না পেলে ভবিষ্যতে আখ চাষ আরও হ্রাস পাবে, যা মিলের অস্তিত্বের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।

বিস্তারিত আসছে….

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

৬২ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে কেরুতে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন

প্রকাশের সময় : ০৬:০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন ও দেশের বৃহত্তম সরকারি চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ৮৮তম আখ মাড়াই মৌসুম।

৬২ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়েও শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় মিলের কেইন ক্যারিয়ারে আখ নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে নতুন মৌসুমের উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

উদ্বোধনের আগে মিল প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দৈনিক আখ মাড়াই ক্ষমতা বর্তমানে ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬৪ দিনে ৭২ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৬৮৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হয়। মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৭২ দিনে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ২৫৬ টন চিনি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অবস্থার পরিবর্তন হলেও মিলের আর্থিক চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮৮ মৌসুমেই লোকসানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই চিনিকল। বর্তমানে মিলের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে। তবে মিলজোনে আখ চাষের পরিমাণ কমে যাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মিলজোন এলাকায় এবার মোট ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখ রয়েছে—নিজেদের খামারে ১ হাজার ৬২৫ একর এবং চাষিদের জমিতে ৩ হাজার ৯৩৭ একর। চলতি মৌসুমে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় সরকার প্রতি মণ (৪০ কেজি) আখের দাম ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্য বাড়লেও সে তুলনায় আখের দাম বাড়েনি বলে অভিযোগ তুলেছেন চাষিরা। তাঁদের মতে, ন্যায্যমূল্য না পেলে ভবিষ্যতে আখ চাষ আরও হ্রাস পাবে, যা মিলের অস্তিত্বের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।

বিস্তারিত আসছে….