০২:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ছোট ভাইয়ের জন্য নিজ শ্বশুর বাড়িতে ২ লাখ টাকা দাবি স্বামীর

শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দিলেন স্বামী, যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার সুলতানা

Ada. Munna Telecom1

সুলতানা খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের কলোনীপাড়ার হাসান শেখের মেয়ে এবং কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের নগরবাকা গ্রামের রাজমিস্ত্রি রবিউল বিশ্বাসের স্ত্রী।

সুলতানা খাতুনের ভাই সোহেল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আমার বোনের স্বামীর ছোট ভাই মাসুদ সম্প্রতি বিদেশে যাবেন। এ জন্য বাপের বাড়ি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে আনার জন্য আমার বোন সুলতানাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে প্রায় তিন মাস যাবত টাকার জন্য শারীরিক-মানুষিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী-শাশুড়ি। সোমবার (২১ জুলাই) সকালে এই ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে বোনের শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দেন স্বামী, পাশেই ছিলেন শাশুড়ি। এতে ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত ঝলসে যায়।

সোহেল বলেন, প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত বোনের শ্বশুর বাড়ি যায়। সেখানে আমাদের উপরে বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন চড়াও হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বোনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার হালসার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করি। পরে অবনতি হলে বোনকে নিয়ে আজ বুধবার (২৩) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ। তিন বছর আগে বোনকে বিবাহ দিয়েছি। এরপর আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যৌতুকের টাকাও দিয়েছি। তারা আমার বোনকে নির্যাতন করতো দেখেই এসব দিয়েছি, তবুও মন গলেনি তাদের। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেও কোন লাভ হয়নি। মাস তিনেক আগে বোন দম্পতির কোলজুড়ে আসে মেয়ে সন্তান। এরপর থেকেই তার ছোটভাই বিদেশে যাবে বলে নগদ দুই লাখ টাকা দাবি করে বোনের স্বামী ও শাশুড়ি। শুরু হয় নির্যাতন। নিজ নামে এনজিও থেকে টাকাও তুলে দিতে বলে। সম্মতি না দেয়ায় আবারো মারধর করে তাকে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। দ্রুত আমরা মামলা করব।

সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসাধীন সুলতানা পারভীন। তার শয্যার পাশে মা, বড় বোন ভাই সোহেলকে দেখা যায়। যন্ত্রনায় ছটফট করছেন সুলতানা। পাশেই তিন মাসের মেয়ে তার নানীর কোলে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা পারভীন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দেবর বিদেশে যাবে এই জন্য আমার বাপের বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা আনতে বলে। আমার পরিবার খুবই দারিদ্র। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার গায়ে ফুটন্ত ভাত পিছন থেকে ঢেলে দেন স্বামী ও শাশুড়ী। এর আগেও আমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন করতো তারা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জুনিয়র সার্জারী কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তম্ময় রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ঝলসে গেছে। শঙ্কামুক্ত কিনা আগামী ৭২ ঘন্টা পর বলা সম্ভব। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে৷

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মোমিনুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এ ধরনের সংবাদ আমার জানা নেই। অভিযোগ বা মামলা হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে৷

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জনপ্রিয়

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুকানো ছিল ১০০০ লিটার ডিজেল: ১৫ দিনের কারাদণ্ড

ছোট ভাইয়ের জন্য নিজ শ্বশুর বাড়িতে ২ লাখ টাকা দাবি স্বামীর

শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দিলেন স্বামী, যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার সুলতানা

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

সুলতানা খাতুন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের কলোনীপাড়ার হাসান শেখের মেয়ে এবং কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের নগরবাকা গ্রামের রাজমিস্ত্রি রবিউল বিশ্বাসের স্ত্রী।

সুলতানা খাতুনের ভাই সোহেল রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, আমার বোনের স্বামীর ছোট ভাই মাসুদ সম্প্রতি বিদেশে যাবেন। এ জন্য বাপের বাড়ি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে আনার জন্য আমার বোন সুলতানাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এ নিয়ে প্রায় তিন মাস যাবত টাকার জন্য শারীরিক-মানুষিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী-শাশুড়ি। সোমবার (২১ জুলাই) সকালে এই ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে বোনের শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢেলে দেন স্বামী, পাশেই ছিলেন শাশুড়ি। এতে ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত ঝলসে যায়।

সোহেল বলেন, প্রতিবেশিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত বোনের শ্বশুর বাড়ি যায়। সেখানে আমাদের উপরে বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন চড়াও হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বোনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়ার হালসার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করি। পরে অবনতি হলে বোনকে নিয়ে আজ বুধবার (২৩) সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ। তিন বছর আগে বোনকে বিবাহ দিয়েছি। এরপর আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যৌতুকের টাকাও দিয়েছি। তারা আমার বোনকে নির্যাতন করতো দেখেই এসব দিয়েছি, তবুও মন গলেনি তাদের। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে গণমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বসেও কোন লাভ হয়নি। মাস তিনেক আগে বোন দম্পতির কোলজুড়ে আসে মেয়ে সন্তান। এরপর থেকেই তার ছোটভাই বিদেশে যাবে বলে নগদ দুই লাখ টাকা দাবি করে বোনের স্বামী ও শাশুড়ি। শুরু হয় নির্যাতন। নিজ নামে এনজিও থেকে টাকাও তুলে দিতে বলে। সম্মতি না দেয়ায় আবারো মারধর করে তাকে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। দ্রুত আমরা মামলা করব।

সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে মেঝেতে চিকিৎসাধীন সুলতানা পারভীন। তার শয্যার পাশে মা, বড় বোন ভাই সোহেলকে দেখা যায়। যন্ত্রনায় ছটফট করছেন সুলতানা। পাশেই তিন মাসের মেয়ে তার নানীর কোলে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সুলতানা পারভীন রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, দেবর বিদেশে যাবে এই জন্য আমার বাপের বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা আনতে বলে। আমার পরিবার খুবই দারিদ্র। টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার গায়ে ফুটন্ত ভাত পিছন থেকে ঢেলে দেন স্বামী ও শাশুড়ী। এর আগেও আমাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন করতো তারা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে জুনিয়র সার্জারী কনসালট্যান্ট ডা. এহসানুল হক তম্ময় রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ঝলসে গেছে। শঙ্কামুক্ত কিনা আগামী ৭২ ঘন্টা পর বলা সম্ভব। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে৷

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. মোমিনুল ইসলাম রেডিও চুয়াডাঙ্গাকে বলেন, এ ধরনের সংবাদ আমার জানা নেই। অভিযোগ বা মামলা হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে৷